Monday, 29 June 2015

শবে কদর কি শুধু রামাযানের সাতাইশ রাতের জন্য নির্দিষ্ট? : ইতিকাফ সংক্রান্ত ভুল ধারণা : ‘লাইলাতুল কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন?


রামাযানের শেষ দশক এবং হাজার মাসের চেয়েও সেরা একটি রাত



রামাযানের শেষ দশক এবং হাজার মাসের চেয়েও সেরা একটি রাত 

(১) আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে। (২) আপনি কি শবে কদর সম্বন্ধে জানেন? (৩) শবে কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (৪) এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরঈল) অবর্তীণ হন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যহত থাকে। (সূরা ক্বদর)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সুপ্রিয় ভাই ও বোন,
দেখতে দেখতে মাহে রামাযান আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমরা এসে পৌঁছেছি শেষ দশকে। সৌভাগ্যবান লোকেরা এ মাসে আঁচল ভরে পাথেয় সংগ্রহ করছে আর হতভাগারা এখনো অন্ধকারের অলি-গলিতে উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কল্যাণের বারি বর্ষণ এখনো শেষ হয়ে যায় নি। বন্ধ হয়ে যায় নি তাওবার দরজা বরং আরও বশি সুযোগ নিয়ে মাহে রামাযানের শেষ দশক আমাদের মাঝে সমাগত। আজকের এই পোস্টে দেখব আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য এতে কী উপহার সাজিয়ে রেখেছেন এবং আমরা কীভাবে তা সংগ্রহ করতে পারব।
প্রিয় পাঠক, আসুন, আমরা আল্লাহ দেয়া উপহারগুলো দুহাত ভরে কুড়িয়ে রামাযানকে আরও অর্থ বহ করে তুলি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

১) রামাযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রী-পরিবার সহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন:
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ
“রামাযানের শেষ দশক প্রবেশ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন।”[1] 
কোমর বাঁধার অর্থ হল: পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে চেষ্টা-সাধনায় লিপ্ত হওয়া। কোন কোন আলেম এর ব্যাখ্যায় বলেন: স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।

২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না:
আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِهِ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।”[2]

শবে কদর

১) শবে কদরে কুরআন অবর্তীণ হয়েছে: 
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
“আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে।” (সূরা কাদর: ১)

২) শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম:
আল্লাহ বলেন:
 لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
“শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা কাদর: ৩)

৩) আল্লাহ তায়ালা শবে কদরকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করেছেন:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ
“নিশ্চয় আমি ইহা (কুরআন)কে অবর্তীণ করেছি একটি বরকতময় রাতে।” (সূরা দুখান: ৩) 
(আর এ রাত হল শবে কদর।)

৪) শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করলে পূর্বের সকল ছোট গুনাহ মোচন হয়ে যায়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সোয়াবের আশায় শবে কদরে রাত জাগরণ করে নফল নামায ও ইবাদত বন্দেগী করবে তার পূর্বের সকল (ছোট) গুনাহ মোচন করে দেয়া হবে।”[3]

শবে কদর কখন হবে?

শবে কদর হবে রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে:

ক) আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”[4]

খ) আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِى بَعْضُ أَهْلِى فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِى الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ
স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল ক্বদ্‌র দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।”[5] 
কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, দু ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ভুলে গেছেন।

গ) শবে কদর কি শুধু রামাযানের সাতাইশ রাতের জন্য নির্দিষ্ট?
আমাদের দেশে সাধারণত: মানুষ শুধু রামাযানের সাতাইশ তারিখে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করে এবং ধারণা করে এ রাতেই শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ ধারণা, সুন্নতের সাথে সঙ্গতীপূর্ণ নয়। কারণ, আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান কর।”[6]
আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِى بَعْضُ أَهْلِى فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِى الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ »
স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল ক্বদ্‌র দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।”[7]

ঘ) তবে শেষ সাত দিনের বেজড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি:
যেমন, নিম্নোক্ত হাদীসটি:
 ابْنِ عُمَرَ – رضى الله عنهما – أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ – صلى الله عليه وسلم – أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْمَنَامِ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – « أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ »
ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবী রামা যানের শেষ সাত রাত্রিতে স্বপ্ন মারফত শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অত:এব কেউ চাইলে শেষ সাত রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) 
এ মর্মে আরও হাদীস রয়েছে।

কোন কোন সালাফে-সালেহীন সাতাইশ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবীগণের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কা’ব (রা:) এর মতামত থেকে এটাই বুঝা যায়।
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এভাবে নির্দিষ্টকরে লাইলাতুল কদর হওয়ার কোন হাদীস নাই। তাই উপরোক্ত সাহবীদের কথার উপর ভিত্তি করে বড় জোর সাতাইশে রাতে শবে কদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সঠিক কথা হল, শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।
সুতরাং শুধু সাতাইশ তারিখ নয় বরং কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে। কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেভাবে শুধু সাতাইশ তারিখ নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়েছে সেটা বিদআত ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই বিদআত বর্জন করে সুন্নতী পন্থায় আমল করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

ঙ) শবে কদরের বিশেষ দুয়া:
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বল:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى
“হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অত:এব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিযী, অনুচ্ছেদ, কোন দুয়াটি শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান, সহীহ)।

ইতিকাফ

ক) রামাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত:
আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। 
আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মৃত্যু দেয়া পর্যন্ত রামাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।”(সহীহ বুখারী)
আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। 
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রামাযানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর সফরে যাওয়ায় ইতিকাফ করতে পারেন নি। তাই যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন ।[8]

খ) ইতিকাফ সংক্রান্ত ভুল ধারণা:
আমাদের দেশে মনে করা হয় যে সমাজের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তিকে অবশ্যই ইতিকাফে বসতে হবে তা না হলে সবাই গুনাহগার হবে। কিন্তু এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। কারণ, ইতিকাফ হল একটি সুন্নত ইবদাত। যে কোন মুসলমান তা পালন করতে পারে। যে ব্যক্তি তা পালন করবে সে অগণিত সোওয়াবের অধিকারী হবে। সবার পক্ষ থেকে একজনকে ইতিকাফে বসতেই হবে এমন কোন কথা শরীয়তে নেই।
আল্লাহ তাআলা সকল ক্ষেত্রে তার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নতকে যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন এবং সকল বিদআত ও সুন্নত বিরোধী কার্যকলাপ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

রেফারেন্স:
[1]  সহীহ বুখরী, অধ্যায়: শবে কদরের ফযীলত। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ইতিকাফ।
[2]  সহীহ মুসলিম: রামাযানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) বেশি বেশি পরিশ্রম করা।
[3]  সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সোয়াবের আশায় রোযা রাখে।
[4]সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করা।
[5]সহীহ বুখারী, অধ্যায়: লাইলাতুল কাদরের ফযীলত।
[6]সহীহ বুখারী, অধ্যায়: লাইলাতুল কাদরের ফযীলত। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: রোযা।
[7]সহীহ বুখারী, অধ্যায়: লাইলাতুল কাদরের ফযীলত।
[8]মুসনাদ আহমাদ, সুনান আবু দাউদ, অধ্যায়: রোযা, তিরমিযী, অধ্যায়: রোযা অনুচ্ছেদ। আল্লামা আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
_________________________________________________________________________________

সূত্র : সালাফী বিডি
[sourse-http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.in/2013/07/blog-post_3603.html]

‘লাইলাতুল কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন?


‘লাইলাতুল কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন?



‘লাইলাতুল্ কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন?

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ
অনেক দ্বীনী ভাই আছেন যারা সহীহ নিয়মে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করতে ইচ্ছুক। তাই তারা প্রশ্ন করে থাকেন যে, লাইলাতুল কদরে আমরা কি কি ইবাদত করতে পারি? এই রকম ভাই এবং সকল মুসলিম ভাইদের জ্ঞাতার্থে সংক্ষিপ্তাকারে কিছু উল্লেখ করা হল। [ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ]

প্রথমতঃ আল্লাহ তাআ’লা আমাদের বলে দিয়েছেন যে, এই রাত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। [আল্ মিসবাহ আল্ মুনীর/১৫২১] 
তাই এই রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করাই হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয়তঃ জানা দরকার যে ইবাদত কাকে বলে? ইবাদত হচ্ছে, প্রত্যেক এমন আন্তরিক ও বাহ্যিক কথা ও কাজ যা, আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকেন। [মাজমুউ ফাতাওয়া,১০/১৪৯]
উক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যেতে পারে যে ইবাদত বিশেষ এক-দুটি কাজে সীমাবদ্ধ নয়। তাই আমরা একাধিক ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করতে পারি। নিম্নে কিছু উৎকৃষ্ট ইবাদত উল্লেখ করা হলঃ

১- ফরয নামায সমূহ ঠিক সময়ে জামাআ’তের সাথে আদায় করা। 
যেমন মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামায। তার সাথে সাথে সুন্নতে মুআক্কাদা, তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ অন্যান্য মাসনূন নামায আদায় করা।

২- কিয়ামে লাইলাতুল্ কদর করা। 
অর্থাৎ রাতে তারবীহর নামায আদায় করা। নবী (সাঃ) বলেনঃ 
“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে (নামায পড়বে) তার বিগত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [ফাতহুল বারী,৪/২৯৪] 
এই নামায জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাতে ইমাম দীর্ঘ কিরাআতের মাধ্যমে নামায সম্পাদন করতে পারেন। ইশার পর প্রথম রাতে কিছু নামায পড়ে বাকী নামায শেষ রাতে পড়াতে পারেন। একা একা নামায আদায়কারী হলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘক্ষণ ধরে নামায পড়তে পারে।

৩- বেশী বেশী দুআ করা। 
তন্মধ্যে সেই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী (সাঃ) মা আয়েশা (রাযিঃ) কে শিখিয়েছিলেন। 
মা আয়েশা নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ করবো? তিনি (সাঃ) বলেনঃ বলবে, (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”। [আহমদ,৬/১৮২] অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”।

এছাড়া বান্দা পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় দুআ করবে। সে গুলো প্রমাণিত আরবী ভাষায় দুআ হোক কিংবা নিজ ভাষায় হোক। এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দুআ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দুআ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এতে বান্দার মুক্ষাপেক্ষীতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

৪- যিকর আযকার ও তাসবীহ তাহলীল করা। 
অবশ্য এগুলো দুআরই অংশ বিশেষ। কিন্তু বিশেষ করে সেই শব্দ ও বাক্য সমূহকে যিকর বলে, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করা হয়। যেমন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্ হামদু ল্লিল্লাহ” “সুবহানাল্লাহ”, “আল্লাহুআকবার” “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “লা হাওলা ওয়ালা কুউআতা ইল্লা বিল্লাহ”। ইত্যাদি।

৫- কুরআন তিলাওয়াত। 
কুরআন পাঠ একটি বাচনিক ইবাদত, যা দীর্ঘ সময় ধরে করা যেতে পারে। যার এক একটি অক্ষর পাঠে রয়েছে এক একটি নেকী। নবী (সাঃ) বলেনঃ 
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, সে তার বিনিময়ে একটি নেকী পাবে… আমি একথা বলছি না যে, আলিফ,লাম ও মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর”। [তিরমিযী, তিনি বর্ণনাটিকে হাসান সহীহ বলেন]
এছাড়া কুরআন যদি কিয়ামত দিবসে আপনার সুপারিশকারী হয়, তাহলে কতই না সৌভাগ্যের বিষয়! নবী (সাঃ) বলেনঃ 
“তোমরা কুরআন পড়; কারণ সে কিয়ামত দিবসে পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে”। [মুসলিম]

৬- সাধ্যমত আল্লাহর রাস্তায় কিছু দান-সাদকা করা। 
নবী (সাঃ) বলেনঃ 
“সাদাকা পাপকে মুছে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়”। [সহীহুত তারগবি]

শবে কদরের একটি রাতে এই রকম ইবাদতের মাধ্যমে আপনি ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারেন। ইবাদতের এই সুবর্ণ সুযোগ যেন হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন!
উল্লেখ থাকে যে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে বৈষয়িক কাজ-কর্মও ইবাদতে পরিণত হয়। যেমন রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খাওয়া, রাত জাগার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম সেরে নেওয়া। তাই লাইলাতুল কদরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে বান্দা যেসব দুনিয়াবী কাজ করে সেগুলোও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
আশা করি আপনাদের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিছু আইডিয়া দিতে পেরেছি। ওয়ামা তাওফীক ইল্লা বিল্লাহ্

শাইখ আব্দুর রকীব মাদানী
লিসান্স : মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়
আল খাফজী দাওয়াহ সেন্টার, সঊদী আরব

ok-তারবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?


তারবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?



তারাবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?
আল্লামা উসাইমীন (রহ:) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা

সম্মানিত শাইখ মোহাম্মাদ সালেহ আল উছাইমীন (র:) বলেন: সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের প্রভু আল্লাহ তায়ালার জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর।
অতঃপর আমি তারাবীর নামায বিষয়ে একটি লিফলেট দেখতে পেলাম, যা মুসলমানদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। আমি আরও জানতে পারলাম যে, প্রবন্ধটি কতিপয় মসজিদে পাঠ করা হয়েছে। প্রবন্ধ বা লিফলেটটি খুবই মূল্যবান। কেননা লেখক তাতে তারাবীর নামাযে খুশু-খুযু এবং ধীর স্থিরতা অবলম্বনের উপর উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে ভাল কাজের বিনিময়ে ভাল পুরস্কার দান করুন।

তবে প্রবন্ধটির মধ্যে বেশ কিছু আপত্তি রয়েছে, যা বর্ণনা করা ওয়াজিব মনে করছি। লেখক সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাযান মাসে বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন।
এর জবাব হচ্ছে এই হাদীছটি যঈফ। 

ইবনে হাজার আসকালানী সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা ফতহুল বারীতে বলেন:
وأما ما رواه ابن أبي شيبة” من حديث ابن عباس كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في رمضان عشرين ركعة والوتر، فإسناده ضعيف، وقد عارضه حديث عائشة هذا الذي في الصحيحين مع كونها أعلم بحال النبي صلى الله عليه وسلم ليلاً من غيرها.
“যে হাদীছটি ইবনে আবী শায়বা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাযান মাসে বিশ রাকাত তারাবি ও বিতর পড়তেন-তার সনদ দুর্বল। আর এটি বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আয়েশা (রা:)এর হাদীছের বিরোধী। আয়েশা (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের অবস্থা অন্যদের চেয়ে বেশী জানতেন।”
আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত যে হাদীছটির প্রতি ফতহুল বারীর ভাষ্যকার ইবনে হাজার আসকালানী (রাহ:) ইঙ্গিত করেছেন, তা ইমাম বুখারী এবং মুসলিম স্বীয় কিতাব দ্বয়ে উল্লেখ করেছেন। 
আবু সালামা আব্দুর রাহমান আয়েশা (রা:) কে জিজ্ঞেস করলেন: রামাযান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামায কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামায ১১ রাকআতের বেশী পড়তেন না। (বুখারী) 
মুসলিমের শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তিনি প্রথমে আট রাকআত পড়তেন। অতঃপর বিতর পড়তেন।
আয়েশা (রা:) এর হাদীছে জোরালো ভাবে এই সংখ্যার উপর যে কোন সংখ্যা অতিরিক্ত করার প্রতিবাদ করা হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাতের নামাযের ধরণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি দুই রাকআত নামায পড়তেন, অতঃপর আরও দুই রাকআত পড়তেন। তারপর আরও দুই রাকআত, এভাবে ১২ রাকআত পূর্ণ করে বিতর পড়তেন। (সহীহ মুসলিম) 
এতে পরিষ্কার হয়ে গেল যে তাঁর রাতের নামায ১১ রাকআত বা ১৩ রাকআতের মধ্যেই ঘূর্ণ্যমান ছিল।

• এখন যদি বলা হয় রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) আর তারাবীর নামায এক নয়। কেননা তারাবী হচ্ছে উমর (রা:)এর সুন্নাত। তাহলে উত্তর কি হবে?
এ কথার উত্তর হচ্ছে, রামাযান মাসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রাতের নামাযই ছিল তারাবী। সাহাবীগণ এটিকে তারাবীহ নাম দিয়েছেন। কেননা তারা এটা খুব দীর্ঘ করে পড়তেন। অতঃপর তারা প্রত্যেক দুই সালামের পর বিশ্রাম নিতেন। তারাবীহ অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। তারাবীহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরই সুন্নাত ছিল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত, 
কোন এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নামায পড়লেন। তাঁর নামাযকে অনুসরণ করে কিছু লোক নামায পড়ল। অতঃপর দ্বিতীয় রাতেও নামায পড়লেন। এতে লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অতঃপর তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে প্রচুর লোকের সমাগম হল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবার ঘর থেকে বের হয়ে তাদের কাছে আসলেন না। সকাল হলে তিনি বললেন: আমি তোমাদের কাজ-কর্ম প্রত্যক্ষ করেছি। আমাকে তোমাদের কাছে বের হয়ে আসতে কোন কিছুই বারণ করে নি, কিন্তু আমি ভয় করলাম যে, তা তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হয় কি না? আর এটি ছিল রামাযান মাসে। (বুখারী ও মুসলিম)

• আর যদি বলা হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ রাকআত পড়েছেন। তার চেয়ে বেশী পড়তে নিষেধ করেন নি। সুতরাং রাকআত বাড়ানোর মধ্যে বাড়তি ছাওয়াব ও কল্যাণ রয়েছে।
তার উত্তরে আমরা বলবো যে, কল্যাণ ও ছাওয়াব হয়ত ১১ রাকআতের মধ্যেই সীমিত। কারণ এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর আমল দ্বারা প্রমাণিত। আর সর্বোত্তম হেদায়েত হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হেদায়েত। সুতরাং তাই যদি হয় তাহলে কল্যাণ ও বরকত ১১ রাকআতের মধ্যেই। আর যদি বিশ্বাস করেন যে বাড়ানোর মধ্যেই কল্যাণ, তাহলে বুঝা যাচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কল্যাণ অর্জনে ত্রুটি করেছেন এবং উত্তম বিষয়টি তার উম্মতের জন্য গোপন করেছেন। নাউযুবিল্লাহ। এ ধরণের বিশ্বাস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ক্ষেত্রে অসম্ভব।

• যদি বলা হয় ইমাম মালিক তার মুআত্তা গ্রন্থে ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
عن يزيد بن رومان قال: كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاثٍ وَعِشرِينَ رَكعةً
ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে বর্ণিত, লোকেরা উমর বিন খাত্তাব (রা:)এর আমলে রামাযান মাসে কিয়ামুল লাইল (বিতরসহ) ২৩ রাকআত আদায় করতেন। 
এই হাদীছের জবাবে কি বলবেন?
এর জবাব হচ্ছে, হাদীছটি দুর্বল ও সহীহ হাদীছের বিরোধী।
দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে:
(১) তার সনদে ইনকিতা রয়েছে। অর্থাৎ কোন একজন রাবী বাদ পড়েছে। কারণ ইয়াজিদ বিন রুমান উমর (রা:) এর যুগ পায় নি। যেমন ইমাম নববী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ ঘোষণা করেছেন।
(২) ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছটি ইমাম মালিক (র:) তাঁর মুআত্তা গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য রাবী মোহাম্মাদ বিন ইউসুফ সায়েব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছের বিরোধী। সায়েব বিন ইয়াজিদ বলেন:
أمر عمر بن الخطاب أبي بن كعب وتميماً الداري أن يقوما للناس بإحدى عشرة ركعة
উমর বিন খাত্তাব (রা:) উবাই বিন কা’ব এবং তামীম দারীকে মানুষের জন্য ১১ রাকআত তারাবীর নামায পড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। দেখুন: (দেখুন শরহুয যুরকানী ১/১৩৮)
সুতরাং সায়েব বিন ইয়াজিদের হাদীছ তিনটি কারণে ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছের চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য।
 ক) সায়েব বিন ইয়াজিদের হাদীছ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছের মোতাবেক। উমর (রা:) এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সুন্নাত জানা সত্ত্বে কখনই তা বাদ দিয়ে অন্যটি নির্বাচন করতে পারেন না।
 খ) ১১ রাকআতের ব্যাপারে সায়েব বিন ইয়াজিদের হাদীছটি সরাসরি উমর (রা:)এর আদেশের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছটি উমর (রা:)এর জামানার দিকে নিসবত করা হয়েছে। সুতরাং ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছে বর্ণিত ২০ রাকআতের উপর উমর (রা:)এর সমর্থন বুঝায়। আর আদেশ সমর্থনের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়। কেননা ১১ রাকআত তাঁর সরাসরি আদেশ দ্বারা প্রমাণিত। আর সমর্থন কখনও বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রেও হতে পারে, যদিও তা পছন্দের বাইরে হয়।
সুতরাং উমর (রা:) ২৩ রাকআতের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকতে পারেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে নিষিদ্ধতা পাওয়া যায় না। সাহাবীগণ এ ব্যাপারে ইজতেহাদ করেছিলেন। আর তিনি তাদের ইজতেহাদকে সমর্থন করেছেন। অথচ তিনি ১১ রাকআতই নির্বাচন করে তা আদায় করার আদেশ দিয়েছিলেন।
 গ) ১১ রাকআতের ব্যাপারে সায়েব বিন ইয়াজিদের হাদীছটি দোষ থেকে মুক্ত। তার সনদ মুত্তাসিল। আর ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছ দুর্বল। সায়েব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন মুহম্মাদ বিন ইউসুফ। তিনি ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে অধিক নির্ভর যোগ্য। কেননা মোহাম্মাদ বিন ইউসুফ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন ثقة ثبت (ছিকাহ ছাবেত)। আর ইয়াজিদ বিন রুমান সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে, তিনি শুধু ثقة (ছিকাহ)। আর
উসুলে হাদীছের পরিভাষায় ছিকাহ ছাবেত রাবীর বর্ণনা শুধু ছিকাহ রাবীর বর্ণনা থেকে অধিক গ্রহণযোগ্য।
الذي قيل فيه ثقة ثبت مرجح على الذي قيل فيه ثقة فقط كما في مصطلح الحديث
আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, ২৩ রাকআতের ব্যাপারে ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদিছটি প্রমাণিত এবং সায়েব বিন ইয়াজিদের বিরোধী নয়, তারপরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত ১১ রাকআতের উপর ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছে বর্ণিত ২৩ রাকআতকে প্রাধান্য দেয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামায ১১ রাকআতের বেশী কখনই পড়েন নি।
সর্বোপরি বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়ে গেছে, তাই মত বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আমাদের করণীয় কি? অবশ্যই আল্লাহ তাআলা এরূপ বিষয়ে আমাদের জন্য সমাধানের ব্যবস্থা করেছেন এবং আমাদেরকে তার কিতাবের দিকে ফেরত যেতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّـهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّـهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্‌র নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও কেয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” (সূরা নিসাঃ ৫৯)
সুতরাং মতবিরোধের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর কাছে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুন্নতের দিকে ফিরে আসতে বলেছেন। আর এটাকেই তিনি কল্যাণ এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তআলা আরও বলেন:
فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً
“অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্ট চিত্তে কবুল করে নেবে।” (সূরা নিসাঃ ৬৫)
এখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের পারস্পরিক বিরোধের সময় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হুকুমের দিকে ফিরে যাওয়াকে ঈমানের দাবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহ কসম করে বলেছেন যে, যারা রাসূলের হুকুমের সামনে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ না করবে এবং খুশী মনে তা না মানবে, নিঃসন্দেহে তাদের ঈমান চলে যাবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর খুতবা সমূহে সবসময় বলতেন: 
“সর্বোত্তম কালাম হচ্ছে আল্লাহর কিতাব আর সর্বোত্তম সুন্নাত হচ্ছে রাসূলরে সুন্নাত।” 
মুসলমানগণ এ ব্যাপারে একমত যে মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সুন্নাত হচ্ছে সর্বোত্তম পথ। মানুষ জ্ঞানে ও আমলে যতই বড় হোক না কেন, কোন অবস্থাতেই তার কথাকে রাসূলের কথার উপর প্রাধান্য দেয়া যাবে না এবং তার কথাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথার চেয়ে উত্তম মনে করা যাবে না।
সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথার বিরোধিতা করতে কঠোর ভাষায় নিষেধ করতেন। এ ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রা:) এর কথাটি কতই না বলিষ্ঠ। তিনি বলেন: 
আমি বলছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আর তোমরা আমার কথার বিরোধিতা করে বলছ আবু বকর ও উমর বলেছেন। আমার আশঙ্কা হচ্ছে তোমাদের এই কথার কারণে আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ করে তোমাদেরকে ধ্বংস করা হয় কি না। (দেখুন: যাদুল মাআদঃ ২/১৯৫)
এখন যদি কোন মুসলিমকে বলা হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে নিয়ে ১১ রাকআত তারাবী পড়তেন। আর উমুক ইমাম মানুষকে নিয়ে ২৩ রাকআত পড়াচ্ছেন, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত বাদ দিয়ে কোন ক্রমেই অন্যের সুন্নাত গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করাই অধিক উত্তম। আর অধিক উত্তম আমলের জন্যই মানুষ, আসমান-যমীন এবং সকল বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً
“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন- কে তোমাদের মধ্যে কর্মে অধিক উত্তম?” (সূরা মূলক: ২)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً
“তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরি করেছেন, তার আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে।” (সূরা হুদ: ৭)
আল্লাহ তাআলা এ কথা বলেন নি যে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশী আমল করে? এটি জানা কথা যে, আমলের মধ্যে ইখলাস অর্থাৎ একনিষ্ঠতা যত বেশী হবে এবং সুন্নতের অনুসরণ যত বেশী করা হবে, আমলটি তত বেশী উত্তম হবে।
সুতরাং ১১ রাকআত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতের মোতাবেক হওয়ার কারণে বাড়ানোর চেয়ে ১১ রাকআত পড়াই উত্তম। বিশেষ করে যখন ধীর স্থীরভাবে, ইখলাসের সাথে এবং খুশু-খুযুর সাথে এই ১১ রাকআত পড়া হবে। যাতে ইমাম ও মুক্তাদী সকলেই দুআ এবং জিকিরগুলো সুন্দরভাবে পড়তে পারবে।

• যদি বলা হয় ২৩ রাকআত পড়া তো আমীরুল মুমিনীন খলীফা উমর (রা:)এর সুন্নাত। তিনি খোলাফায়ে রাশেদার একজন। তাদের অনুসরণ করার জন্য আমাদেরকে আদেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমরা আমার পরে আমার সুন্নাত ও সঠিক পথপ্রান্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ করবে।
এ কথার জবাবে বলবো যে, ঠিক আছে। উমর (রা:) খোলাফায়ে রাশেদার অন্তর্ভুক্ত। তাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের ভালভাবে জানতে হবে তারাবীর রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে উমর (রা:) এর সুন্নতটি কি?
অনুসন্ধান করে আমরা যা জানতে পারলাম, তা হচ্ছে ২৩ রাকআতের বর্ণাগুলো দুর্বল ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত সহীহ হাদীছের বিরোধী। বরং সহীহ সনদে উমর (রা:) উবাই বিন কা’ব ও তামীম দারীকে ১১ রাকআত পড়ানোর আদেশ দিয়েছেন বলেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেই যে উমর (রা:) ২৩ রাকআত নির্ধারণ করেছেন, তারপরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর আমলের বিরুদ্ধে তাঁর কথা দলীল হতে পারে না। আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাত, সাহাবীদের কথা এবং মুসলমানদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, কারও কথা রাসূলের সুন্নতের সমান হতে পারে না। সে যত বড়ই হোক না কেন? কারও কথা টেনে এনে রাসূলের সুন্নতের বিরুদ্ধে দাঁড় করা যাবে না।
ইমাম শাফেয়ী (র:) বলেন:
أجمع المسلمون على أن من استبانت له سنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يحل له أن يدعها لقول أحد
“মুসলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে কারও কাছে রাসূলের সুন্নাত সুস্পষ্ট হয়ে যাওযার পর তা ছেড়ে দিয়ে অন্যের কথা গ্রহণ করা জায়েজ নয়।”

• যারা বলেন, সাহাবীদের জামানা থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানগণ ২৩ রাকআত পড়ে আসছেন। সুতরাং তা ইজমার মত হয়ে গেছে।
তাদের এই কথা সঠিক নয়। সাহাবীদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে তারাবীর রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে খেলাফ (মতবিরোধ) চলেই আসছে। হাফেজ ইমাম ইবনে হাজার আসকালী (র:) ফতহুল বারীতে এ ব্যাপারে মতপার্থক্যের কথা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: আবান বিন উসমান এবং উমর বিন আব্দুল আজীজের আমলে মদীনাতে ৩৩ রাকআত তারাবী পড়া হতো। ইমাম মালিক (র:) বলেন একশ বছরেরও বেশী সময় পর্যন্ত চলমান ছিল। (দেখুন ফতহুল বারী আলমাকতাবা সালাফীয়া ৪/২৫৩)
সুতরাং যেহেতু মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে মতভেদ চলে আসছে, তাই কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসাতেই রয়েছে এর সমাধান। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا
“তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও কেয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” (সূরা নিসাঃ ৫৯)
সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের প্রভু আল্লাহ তায়ালার জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী, তার পরিবার এবং সকল সাহাবীর উপর।

মোহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উছাইমীনঃ ০৮/০৯/১৩৯৫ হিজরী।
আরবীতে পারদর্শী ভাইদের জন্য ফতোয়ার লিংক দেয়া হল

একটি সংযোজন:
হানাফী মাজহাবের যে সমস্ত বিজ্ঞ আলেম ২০ রাকআত তারাবী পড়ার পক্ষের হাদীছগুলাকে যঈফ বলেছেন, তাদের নামের একটি বিশাল তালিকাঃ
১) মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, অধ্যায়ঃ কিয়ামে শাহরে রামাযান, পৃষ্ঠা নং-১৩৮। মুস্তফায়ী ছাপা, ১২৯৭ হিঃ।
২) নাসবুর রায়া, (২/১৫৩)আল্লামা যায়লাঈ হানাফী,মাজলিসুল ইলমী ছাপা, ভারত।
৩) মিরকাতুল মাফাতীহ,(৩/১৯৪) মোল্লা আলী কারী হানাফী, এমদাদীয়া লাইব্রেরী, মুলতান, ভারত।
৪) উমদাতুল কারী শরহে সহীহ আল-বুখারী,(৭/১৭৭)প্রণেতা আল্লামা বদরুদ দীন আইনী হানাফী মিশরী ছাপা।
৫) ফতহুল কাদীর শরহে বেদায়া (১/৩৩৪) প্রণেতা ইমাম ইবনুল হুমাম হানাফী।
৬) হাশিয়ায়ে সহীহ বুখারী (১/১৫৪) প্রণেতা মাওলানা আহমাদ আলী সাহরানপুরী।
৭) আল-বাহরুর রায়েক (২/৭২) প্রণেতা ইমাম ইবনে নুজাইম হানাফী।
৮)হাশিয়ায়ে দুররে মুখতার (১/২৯৫) প্রণেতা আল্লামা তাহাভী (রঃ)হানাফী।
৯) দুররুল মুখতার (ফতোয়া শামী)(১/৪৯৫) প্রণেতা আল্লামা ইবনে আবেদীন হানাফী।
১০) হাশিয়াতুল আশবাহ পৃষ্ঠা নং-৯ প্রণেতা সায়্যেদ আহমাদ হামুভী হানাফী।
১১) হাশিয়ায়ে কানযুদ দাকায়েক পৃষ্ঠা নং-২৬, প্রণেতা মাওলানা মুহাম্মাদ আহমাদ নানুতুভী।
১২) মারাকীউল ফালাহ শরহে নুরুল ইজাহ পৃষ্ঠা নং- ২৪৭, প্রণেতা আবুল হাসান শরানবালালী।
১৩) মা ছাবাতা ফিস সুন্নাহ,পৃষ্ঠ নং- ২৯২, প্রণেতা শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী।
১৪) মাওলানা আব্দুল হাই লাখনুভী হানাফী বিভিন্ন কিতাবের হাশিয়াতে ২০ রাকআতের হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখুন উমদাতুর রেআয়া (১/২০৭)।
১৫) তালীকুল মুমাজ্জাদ, পৃষ্ঠা নং-১৩৮।
১৬) তুহফাতুল আখয়ার পৃষ্ঠা নং-২৮,লাখনু ছাপা।
১৭)হাশিয়ায়ে হেদায়া (১/১৫১) কুরআন মহল, করাচী ছাপা।
১৮) ফাইযুল বারী,(১/৪২০) প্রণেতা মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশমীরী।
১৯) আলউরফুয্ শাযী পৃষ্ঠা নং- ৩০৯।
২০) কাশফুস সিতর আন সালাতিল বিতর পৃষ্ঠা নং- ২৭।
২১) শরহে মুআত্তা ফারসী,(১/১৭৭) প্রণেতা শাহ অলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। কুতুব খান রাহীমিয়া, দিল্লী, ১৩৪৬ হিঃ।
উপরোক্ত আলেমগণ ছাড়া আরও অনেকেই ২০ রাকআত তারাবীর হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। আশা করি উপরোক্ত তথ্যগুলো জানার পর কেউ ২০ রাকআত তারবীর পক্ষের হাদীছগুলো সহীহ বলা থেকে সকলেই বিরত থাকবেন এবং অন্যদেরকেও বিরত রাখার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ হাদীছের উপর আমল করার এবং জাল ও যঈফ হাদীছ বর্জন করার তাওফীক দিন। আমীন।


অনুবাদক: আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী 
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, এম,এম, ফাস্ট ক্লাশ
সম্পাদনা: শাইখ আব্দুল্লাহিল-হাদী মু. ইউসুফ
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
[sourse-http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.in/2013/07/blog-post_761.html]

ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ইবাদত করার নিয়ম কি?



প্রশ্ন (২২/৩৮২) : ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ইবাদত করার নিয়ম কি?
-ইসহাক, কাঁঠালপাড়া, পবা, রাজশাহী।
উত্তর : (১) দীর্ঘ রুকূ ও সিজদার মাধ্যমে বিতরসহ ১১ রাক‘আত তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করা (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। (২) একই সূরা, তাসবীহ, দো‘আ বারবার পড়ে ছালাত দীর্ঘ করা (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২০৫, সনদ হাসান; আবুদাঊদ হা/৮১৬; মিশকাত হা/৮৬২)। (৩) অধিকহারে তেলাওয়াত করা (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩)। (৪) একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ-দরূদ ও তওবা-ইস্তেগফার করা। ক্বদরের রাতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দো‘আ ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউভুন তোহেববুল ‘আফ্ওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর) (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১) বেশী বেশী পাঠ করা। (৫) তারাবীহ’র ৮ রাক‘আত ছালাত জামা‘আতে আদায় করাই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমামের সাথে জামা‘আতে ক্বিয়ামকারী সারা রাত্রি ছালাত আদায়ের নেকী পেয়ে থাকে’ (তিরমিযী হা/৮০৬, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২৯৮)। (৬) এ রাতে মসজিদে জামা‘আতের সাথে ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া। অতঃপর তাসবীহ-তেলাওয়াত শেষে ঘুমিয়ে যাওয়া। অতঃপর শেষ রাতে উঠে তাহিইয়াতুল ওযূ, তাহিইয়াতুল মসজিদ ইত্যাদি শেষে ৩ অথবা ৫ রাক‘আত বিতর পড়া, তেলাওয়াত করা, দো‘আ-দরূদ পাঠ করা ইত্যাদি।

Sunday, 28 June 2015

তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত


++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++




তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাতঃ
=========================
রাসূল ﷺ রমাযান ও রমাযানের বাইরে বিতর সহ ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না, যার মধ্যে ৩ রাকাত ছিল বিতরের সালাত। কিন্তু আমাদের হানাফী ভাইগনের দাবী এটা রাসূল ﷺ এর তারাবীহর সালাত নয়, এটা তাহাজ্জুদের সালাত, রাসূল ﷺ এর তারাবীহ ছিল ২০ রাকআত। এটাকে তারাবীহর দলীল যাতে না দিতে পারে সেজন্য তারা মরিয়া হয়ে প্রমাণ করতে চায় তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত নয়, ভিন্ন ভিন্ন সালাত। এটা প্রমানে তারা যে সমস্ত যুক্তি তুলে ধরে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব, ইনশা আল্লাহ।

■ দাবী নং ১: তাহাজ্জুদ সালাত ইসলামের শুরুতে নির্ধারিত হয়েছিল আর তারাবীহ সালাত রাসূল ﷺ শেষ রামাযান মাসে নির্ধারিত হয়।
►জবাবঃ এই দাবীর কোন দলীল নেই। এমন কোন সহীহ হাদীস নাই যেখানে বলা হয়েছে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত। এমন কোন সহীহ হাদীস কেউ দেখাতে সমর্থ হবে না যে রাসূল ﷺ প্রথমে তারাবীহ সালাত আদায় করেছেন পরে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করেছেন। আমরা বুখারীর ২০১৩ নং হাদীসে দেখতে পাই আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেছেন যে, রামাযান ও রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এগারো রাকআতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। এর প্রথম ৮ রাকাআত ছিল কিয়ামুল লাইল এবং পরের ৩ রাকআত ছিল বিতরের সালাত। আয়েশা (রা:) এর এই হাদীস একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত। আসলে কিয়ামুল লাইল, কিয়ামুল রামাযান, তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ একই সালাতের ভিন্ন ভিন্ন নাম। নিচের আলোচনায় তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে আশাকরি -

ক) ‘তারাবীহ’ শব্দটি রাসূল ﷺ ও সাহাবীদের যুগে কখনও রামাযানের রাতের সালাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় নি।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এমন কোন সহীহ দলীল নেই যে রাসূল ﷺ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ সালাত আলাদা আলাদা পড়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তারাবীহ শব্দটি রাসূল ﷺ এর রাতের সালাত বিষয়ক কোন হাদীসের মতনে (text) কখনও ব্যবহার করা হয় নাই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেটা সাধারণ পাবলিকদের জানানো হয় না। সাধারণত: রামাযানের রাতের এই সালাতকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের সালাত এবং অন্যান্য মাসের ক্ষেত্রে তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইল শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে।

খ) একই হাদীস তারাবীহ এবং কিয়ামুল লাইল অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুহাদ্দীসগণ এবং ইমামগণ একই হাদীস তারাবীহ এবং কিয়াম এর অনুচ্ছেদের নিচে উল্লেখ করেছেন। এ দু’টি সালাত এক বলেই মুহাদ্দীসগণ এটা করেছেন। আর মুহাদ্দীসগণ হাদীসের মর্মের ব্যাপারে বেশি অবগত। উদারহণস্বরূপ - নিম্নের হাদীসটি একই সাথে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ (কিয়াম) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হয়েছে।
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। [বুখারী হা/১১৪৭, ২০১৩]

ইমাম বুখারী (রহ.) এ হাদীসকে তাহাজ্জুদ (কিয়াম) এর অনুচ্ছেদে এনেছেন, হাদীস নং ১১৪৭। লিংক:http://hadithbd.com/show.php?BookID=12&HadithNo=1147
এটিকে আবার তারাবীহ্‌র অধ্যায়েও এনেছেন, হাদীস নং ২০১৩।

এই বিতরসহ ১১ রাকাত (৮+৩) এই হাদীস ইমাম মুহাম্মদ বিন আল হাসান আশ-শায়বানী (রহ.) এর মুয়াত্তাতেও "قيام شهر رمضان و ماء فيه من الفضل" (অর্থাৎ "রমজান মাসের কিয়াম এবং এতে যে সকল ফযিলত রয়েছে") শিরোনামের নিচে এনেছেন।
মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী রহ. এর হাসিয়াতে বলেছেন যে " ”قوله قيام شهر رمضان ويسمى التراويح যার অর্থ - রামাযানের কিয়াম এবং তারাবীহ একই সালাত।
ইমাম বায়হাকী রহ. তাঁর ‘আল সুনান আল-কুবরা’- তে "”باب ما روي في عدد ركعات القيام في شهر رمضان (অর্থাৎ "যা বর্ণিত হয়েছে রমজান মাসের কিয়ামের রাকাত সম্পরকে "-এর অনুচ্ছেদ) - এর নিচে হাদীসটি এনেছেন।
ইমাম আবূ আল-আব্বাস কুরতুবী রহ. বলেন,
ثم اختلف فى المختار من عدد القيام فعند مالك :أن المختار من ذلك ست و ثلاثون......وقال كثير من أهل العلم :إحدىٰ عشرة ركعة أخذاً بحديث عائشة
তারাবীহ সালাতের রাকআত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে, ইমাম মালিক (রহ.) ৩৬ রাকআত বেছে নিয়েছেন.....এবং বিদ্বানদানদের এক বৃহৎ দল বলেছেন তা ১১ রাকাত যেমনটি আয়েশা (রাদি আল্লাহু আনহা) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
[المفہم لما اشکل من تلخیص کتاب مسلم 2/390،389]

গ) মুতাকাদ্দিমীন এর মধ্য থেকে কোন একজন মুহাদ্দীস ও ফকীহও দাবী করেন নি যে হযরত আয়েশা (রা:) এর বর্ণিত হাদীস তারাবীহ সালাতের নয়, এবং কোন মুহাদ্দীসই এই হাদীসকে তাহাজ্জুদের সালাতের হাদীস বলে তারাবীহ সালাতের বিপক্ষে পেশ করেন নি।
ঘ) বিদ্বানগণ ৮ রাকাত (বিতরসহ ১১ রাকআত) এর হাদীসকে ২০ রাকআতের দুর্বল হাদীসের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছেন।
বহু সংখ্যক মুহাদ্দীস (হানাফীগণ সহ) ২০ রাকআত সম্বলিত হাদীসের বিপরীতে ৮ রাকআত সম্বলিত আয়েশা (রা:) এর হাদীস পেশ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন -
✔ ১) আল্লামা যাইলা’ঈ হানাফী রহ. (নাসাবুর রায়াহ, ২/১৫৩)
✔ ২) হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (আদ-দেরায়াহ, ১/২০৩)
✔ ৩) ইবনে হুমাম হানাফী রহ. (ফাতহুল কাদীর, শহরে হেদায়াহ)
✔ ৪) আল্লামা আইনী হানাফী রহ. (উমদাতুল কারী ১১/১২৮)
✔ ৫) আল্লামা সূয়ূতী রহ. (আল-হাওয়ি লিল ফাতাওয়া ১/৩৪৮)
এবং আরোও অনেকে..।

→আল্লামা যাইলা’ঈ হানাফী রহ. বলেন,
-ইবরাহীম ইবনু উসমানের কারণে হাদীসটি ত্রুটিপূর্ণ। সে সর্বসম্মতিক্রমে যঈফ। ইবনু আদী তাঁর ‘কামেল’ গ্রন্থে এই হাদীসকে দুর্বল বলেছেন। এতদসত্ত্বেয় আবু সালামাহ জিজ্ঞাসিত আয়েশরা (রা:) এর বর্ণিত সহীহ হাদীসের বিরোধী...(সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ৮+৩ রাকাতের হাদীস)। [নাসাবুর রায়াহ, ২য় খন্ড, ১৫৩ পৃষ্ঠা]

→ আল্লামা ইবনুল হুমাম হানাফী রহ. বলেন,
-মুহাদ্দীসগনের ঐকমত্যে যঈফ স্বীকৃত রাবী ইবরাহীম ইবনে উসমান থাকার কারণে হাদীসটি যঈফ। যিনি ইমাম আবুবকর ইবনে আবী শায়বার দাদা। এছাড়াও এটি সহীহ হাদীসের (আয়েশা রা: বর্ণিত ১১ রাকআত) বিরোধী। [ফাতহুল কাদীর, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃ:]

→ইবনে হাজার আসকালী রহ. বলেন,
-রাসূলুল্লাহ ﷺ রামাযান মাসে ২০ রাকআত তারাবীহ ও বিতর পড়তেন মর্মে ইবনু আব্বাস থেকে ইবনু আবু শায়বাহ যে বর্ণনা করেছেন তার সনদ যঈফ। তাছাড়াও সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আয়েশা (রা:) এর হাদীসের বিপরীত বর্ণনা করেছেন। ফাতওহুল বারী, ৪/৩১৯, ২০১৩ নং হাদীসের আলোচনা দ্র:]

→এক রাত্রে ২ বিতর সালাত নাই:
যদি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত হতো, তাহলে উসূল অনুসারে, রাসূল (সা:) ২৩ রাকাআত (২০ তারাবীহ+৩ বিতর) পরেছেন এবং একই সাথে তিনি বিতর সহ ১১ রাকআত তাহাজ্জুদ সালাত পড়েছেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আয়েশা (রা:) এর বর্ণিত হাদীসে। তাহলে গ্রহণ করতে হয় রাসূল (সা:) একরাত্রে ২ বার বিতর পরেছেন। অথচ রাসূল ﷺ বলেছেন,
-এক রাত্রে দুই বিতর নেই। [তিরমিযি ৪৭০, আবূ দাউদ ১৪৩৯, নাসাঈ ১৬৭৮]।
আর রাসূল ﷺ এর কথা ও কাজে বিপরীতধর্মী হবেন এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত এই ধারণা বাতিল।

চ) হানাফী বিদ্বানদের অভিমত:
======================
✔১) ইবনে হুমাম হানাফী রহ. বলেন, 
-এবং সবকিছুর সিদ্ধান্ত হল যে কিয়ামুল রামাযান (তারাবীহ) এর সুন্নাহ হল বিতরসহ ১১ রাকআত জামাআতের সাথে। [ফাতহুল কাদীর, ১/৪০৭] এরপর তিনি বলেন ২০ রাকআত হলো খুলাফায়ে রাশেদীন এর সুন্নাহ।
✔ ২) মুল্লা আলী কারী রহ. একই কথা বলেছেন যে কিয়ামুল রামাযানের সুন্নাহ হল ১১ রাকাআত (মিরকাত ৩/৩৮২)
✔ ৩) আহমদ তাহতাবী বলেন, “কারণ নবী (সা:) ২০ রাকআত পড়েন নাই, বরং (পড়েছেন) ৮ (রাকআত)। [হাসিয়াতুল তাহতাভী আলা দুররুল মুখতার ১ম খন্ড, ২৯৫ পৃ:]
✔ ৪) মুহাম্মাদ আহসান নানুতবী একই কথাই উল্লেখ করেছেন [হাশিয়া কানযুল দাকাইক পৃ: ৩২]
✔ ৫) ইবনে নাযুইম মিসরি রহ. বলেন যে ৮ রাকআত তারাবীহ মাসনুন। [আল বাহরুর রাক্বাইক ২/৬৭]
✔ ৬) খলিল আহমেদ সাহরানপুরি দেওবন্দী বলেন যে তারাবীহর সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ হল ৮ রাকআত যাতে সবাই সম্মত হয়েছেন। [বারাহীনে কাতিয়া, ১০৯, ১৯৫]
✔ ৭) আবদুস শাকুর লাখনবী স্বীকার করেছেন যে ৮ রাকআত তারাবীহ মাসনূন। [ইলমুল ফিকাহ, পৃ: ১৯৮]
✔ ৮) আব্দুল হাই লাখনবী রহ. বলেন, “রাসূল (সা:) দুইভাবে তারাবীহ পড়েছেন - ২০ রাকআত জামাআত ছাড়া, তবে এর সনদ দূর্বল, ৮ রাকআত ৩ রাকআত বিতরসহ জামাআত সহকারে” [মাজমুয়া ফাতাওয়া আব্দুল হাই ১ম খন্ড পৃ: ৩৩১, ৩৩২]
✔ ৯) মাওলানা মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ কাশমিরী রহ. বলেন “এটা স্বীকার করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই যে রাসূল (সা:) এর তারাবীহ সালাত ছিল ৮ রাকআত, এবং কোন বর্ণনা দ্বারা এটা প্রতিষ্ঠিত নয় যে তিনি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদাভাবে পড়েছেন।” [উরফ আশ-শাযী ১/১৬৬]তিনি আরো বলেছেন, “আমার নিকট এ দু’টি সালাত একই সালাত। সাধারণ লোকেরা এটার অর্থ না বুঝে দুটো আলাদা সালাত বানিয়ে দিয়েছে।” [ফয়জুল বারী, ২/৪২০]
✔ ১০) মোহাম্মাদ ইউসুফ বিন্নরী রহ. বলেন, “এভাবে, এটা গ্রহণকরা প্রয়োজনীয় যে নবী (সা:) আটা রাকআত তারাবীহও পড়েছেন।” [মা’রিফুল সুনান, ৫/৫৪৩]
✔ ১১) মুহাম্মদ কাসিম নানৌতবী, দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, লিখেছেন, “বিদ্বান লোকজন এটা লিখেছেন যে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ প্রকৃতপক্ষে একই সালাত।” [ফুইয়োয কাসেমিয়াহ পৃ: ১৩]

এমন উদাহরণ আরো দেওয়া যাবে। এখানে এটা উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য না যে উনাদের মত হল তারাবীহ ৮ রাকাআত পড়া। বরং উনারা স্বীকার করেছেন রাসূল সা: এর তারাবীহ ছিল ৮ রাকআত, যা আয়েশা রা: এর হাদীস দ্বারা জানা যায়। সুতরাং তাদের মত অনুসারে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত।
ছ) চার ইমাম থেকে নিচের অভিমতগুলোও প্রমাণিত:
=====================================
■ইমাম আবূ হানীফা রহ. অভিমতঃ
ইমাম মুহাম্মদ বলেন,
-আবূ হানীফা আমাদের জানিয়েছেন, যিনি বলেন, আমাদের নিকট আবূ জাফর বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন, নবী ﷺ ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে ১৩ রাকআত পড়তেন, যার ৮ রাকআত নফল, ৩ রাকআত বিতর, এবং দুই রাকআত ফজরের সালাতের সুন্নাত ছিল। [মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বিতরসহ সালাত আদায়ের অনুচ্ছেদ]

■ইমাম মালিক রহ. অভিমত:
আমি ১১ রাকআত রামাযানের কিয়াম হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং উমার বিন খাত্তাব লোকদেরকে একত্রে করেছিলেন এই সালাতের উপর এবং এটাই আল্লাহর নবীর ﷺ এর সালাত। এবং আমি জানিনা কোথা থেকে মানুষ এই বহু রাকআতের উদ্ভাবন করল। [কিতাবুল তাহাজ্জুদ, আব্দুল হক আল-শাবীলি; হাদীস নং ৮৯০]

→আল্লামা আইনি হানাফী রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর অভিমত ছিল ১১ রাকআতের উপর। [দেখুন উমদাতুল কারী ১১/১২৬, ২০১০ নং হাদীসের আলোচনায়]
→ শাইখ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর মাযহাব হল ৩৬ রাকআত। [আল-ইখতিয়ারাত, পৃ: ৬]
→ কাযী আবূ বকর আল-আরবি আল-মালিকী রহ. বলেন:
এবং সঠিক (মত) হল যে ১১ রাকআত পড়া উচিত। এটা ছিল রাসূল (সা:) এর সালাত ও কিয়াম। এর বাইরের কোন সংখ্যার কোন সত্যতা নাই। [عارضۃ الاحوذی 4/19 ح806]

■ ইমাম শাফেয়ী রহ. ২০ রাকাআত তারাবীহর কথা বলার পর বলেছেন:
-(তারবীহর সালাতের) ব্যাপারে কোন সমস্যা নাই এবং এর (রাকআত সংখ্যার) কোন সীমাবদ্ধতা নাই কারণ এটা নফল সালাত। যদি রাকআত সংখ্যা কম এবং কিয়াম লম্বা হয় তাহলে তা উত্তম এবং আমি এই মত পছন্দ করি আর যদি বেশি রাকআত সংখ্যা হয় তাহলেও তা উত্তম। [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২, ২০৩]

■ ইমাম আহমাদ ইবনে হানবল রহ. বলেন,
- ইসহাক বিন মানসুর রাকআতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: ৪০ রাকআত এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, এটা শুধু নফল সালাত। [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২]

→ ইবনে তাইমিয়াহ রহ. বলেন,
-কিন্তু সঠিক অভিমত হল যে সবগুলোই ভাল, যেমন বলেছেন ইমাম আহমাদ রহ.। কিয়ামুল রামাযানের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকআত নাই, কারণ রাসূল ﷺ কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি। [মাজমুআল ফাতাওয়া, ২৩/১১৩]

→তিরমিযি রহ. একই কথা বলেছেন যে ইমাম আহমাদ রাকআতের কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি। “ولم يقض فيه بشيء”


►►উপরের ইমামদের অভিমত থেকে এটা পরিস্কার যে উনারাও বিতরসহ ১১ রাকআতের তারাবীহকে অস্বীকার করেন নি। আর এটাও প্রমাণিত হলো ২০ রাকআত তারাবীহর উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় নি।

COMMENTS:-

  • Mahfuz Ahmed FZ আজকে আব্দুর রাজ্জাক এর একটা বয়ানে শুনলাম মক্কা মদিনায়(তুরকিদের দখলে) নাকি ২০ রাকাত তারাবীহ তুরকীদের ভয়ে পরা হয়।আমার প্রশ্ন মানুষের ভয়ে অথবা কোন গুস্টির ভয়ে বেদাত করা কি জায়েজ???। আপনারা নাকি মদিনা university এক এক জন শায়খ ত আপনারা কি (দুঃখিত) বাল হালান??যেই জায়গা থেকে ইসলাম প্রচার হইছে সেই জায়গায় বেদাত অসম্ভব কারণ আল্লাহতালা যেইখানে থেকে ইসলাম প্রচার করছেন সেই জায়গায় বেদাত এইটা (মূর্খ,বরবর,অসভ্য) লোকদের কাছেই মনে হবে।নবীজী যেই জায়গায় শুয়ে আছে সেইখানে বেদাত বোকা লোক ছাড়া কেউ এমনটা মনে করে না।আসলে যারা যত নবীজীর সুন্নত থেকে দূরে তারা তত বেদাত করে থাকে।
  • Ibrahim Rafat U r right ...... But i want to know makkah te keno 20 rakat porano hoi ????
  • Tamjeed Mahmud Shara bochor ki manush Tarabi'h pore. Tarabi'h kebol Ramadan ei pore
  • Sajibur Biplob Vai comment gulo answer jnty chai,mokka ty ki 20rakat tarabi hoy?r Umar(R) ar amol a ki sotti 20rakat jamaty pora hoto?r ki vaby amadr samaj a 20rakat chalu holo?
  • Sahriar Rahman Onu ভাই যতোগুলি উদাহরন দিলেন তার একটাও সহি হাদিস মোতাবেক না। তারাবি যদি ৮ রাকাত হবে তাহলে হযরত উমার(রা) খিলাফতের সময় জামাতে ২০ রাকাত পড়া হতো কেনো তার ব্যাখা দিবেন? নাকি আপনাদের এই তথাকথিত হজুরেরা উমারের থেকে বেশি ওলি ছিলেন?
    Like · Reply · 4 · 18 June at 14:28
    • Imtiaz Ahmed Khan Apnader hujur ra Muhammad Sallallahu Alaihi Wasallam er cheye nijeder boro bhabte paren hoito, tai apnader kotha batra airokom. Brain wash howar ekta limit thaka uchit. ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে বর্ণিত, লোকেরা উমর বিন খাত্তাব (রা:) এর আমলে রামাযান মাসে কিয়ামুল লাইল (বিতরসহ) ২৩ রাকআত আদায় করতেন। এই হাদীছের জবাবে কি বলবেন? এর জবাব হচ্ছে, হাদীছটি দুর্বল ও সহীহ হাদীছের বিরোধী।দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে:
      (১) তার সনদে ইনকিতা রয়েছে। অর্থাৎ কোন একজন রাবী বাদ পড়েছে। কারণ ইয়াজিদ বিন রুমান উমর (রা:) এর যুগ পায় নি। যেমন ইমাম নববী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ ঘোষণা করেছেন।
      (২) ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছটি ইমাম মালিক (র:) তাঁর মুআত্তা গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য রাবী মোহাম্মাদ বিন ইউসুফ সায়েব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছের বিরোধী। সায়েব বিন ইয়াজিদ বলেন:
      উমর বিন খাত্তাব (রা:) উবাই বিন কা’ব এবং তামীম দারীকে মানুষের জন্য ১১ রাকআত তারাবীর নামায পড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। দেখুন: (দেখুন শরহুয যুরকানী ১/১৩৮)
    • +++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
    • READ MORE[...facebook...]

  • একটি সংযোজন: হানাফী মাজহাবের যে সমস্ত বিজ্ঞ আলেম ২০ রাকআত তারাবী পড়ার পক্ষের হাদীছগুলাকে যঈফ বলেছেন, তাদের নামের একটি বিশাল তালিকাঃ

    ১) মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, অধ্যায়ঃ কিয়ামে শাহরে রামাযান, পৃষ্ঠা নং-১৩৮, মুস্তফায়ী ছাপা, ১২৯৭ হিঃ
    ২) নাসবুর রায়া, (২/১৫৩)আল্লামা যায়লাঈ হানাফী,মাজলিসুল ইলমী ছাপা, ভারত
    ৩) মিরকাতুল মাফাতীহ,(৩/১৯৪) মোল্লা আলী কারী হানাফী, এমদাদীয়া লাইব্রেরী, মুলতান, ভারত
    ৪) উমদাতুল কারী শরহে সহীহ আল-বুখারী,(৭/১৭৭)প্রণেতা আল্লামা বদরুদ দীন আইনী হানাফী মিশরী ছাপা
    ৫) ফতহুল কাদীর শরহে বেদায়া (১/৩৩৪) প্রণেতা ইমাম ইবনুল হুমাম হানাফী
    ৬) হাশিয়ায়ে সহীহ বুখারী (১/১৫৪) প্রণেতা মাওলানা আহমাদ আলী সাহরানপুরী
    ৭) আল-বাহরুর রায়েক (২/৭২) প্রণেতা ইমাম ইবনে নুজাইম হানাফী
    ৮)হাশিয়ায়ে দুররে মুখতার (১/২৯৫) প্রণেতা আল্লামা তাহাভী (রঃ)হানাফী
    ৯) দুররুল মুখতার (ফতোয়া শামী)(১/৪৯৫) প্রণেতা আল্লামা ইবনে আবেদীন হানাফী
    ১০) হাশিয়াতুল আশবাহ পৃষ্ঠা নং-৯ প্রণেতা সায়্যেদ আহমাদ হামুভী হানাফী
    ১১) হাশিয়ায়ে কানযুদ দাকায়েক পৃষ্ঠা নং-২৬, প্রণেতা মাওলানা মুহাম্মাদ আহমাদ নানুতুভী
    ১২) মারাকীউল ফালাহ শরহে নুরুল ইজাহ পৃষ্ঠা নং- ২৪৭, প্রণেতা আবুল হাসান শরানবালালী
    ১৩) মা ছাবাতা ফিস সুন্নাহ,পৃষ্ঠ নং- ২৯২, প্রণেতা শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী
    ১৪) মাওলানা আব্দুল হাই লাখনুভী হানাফী বিভিন্ন কিতাবের হাশিয়াতে ২০ রাকআতের হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখুন উমদাতুর রেআয়া (১/২০৭)
    ১৫) তালীকুল মুমাজ্জাদ, পৃষ্ঠা নং-১৩৮
    ১৬) তুহফাতুল আখয়ার পৃষ্ঠা নং-২৮,লাখনু ছাপা
    ১৭)হাশিয়ায়ে হেদায়া (১/১৫১) কুরআন মহল, করাচী ছাপা
    ১৮) ফাইযুল বারী,(১/৪২০) প্রণেতা মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশমীরী
    ১৯) আলউরফুয্ শাযী পৃষ্ঠা নং- ৩০৯
    ২০) কাশফুস সিতর আন সালাতিল বিতর পৃষ্ঠা নং- ২৭
    ২১) শরহে মুআত্তা ফারসী,(১/১৭৭) প্রণেতা শাহ অলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। কুতুব খান রাহীমিয়া, দিল্লী, ১৩৪৬ হিঃ

    উপরোক্ত আলেমগণ ছাড়া আরও অনেকেই ২০ রাকআত তারাবীর হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। আশা করি উপরোক্ত তথ্যগুলো জানার পর কেউ ২০ রাকআত তারবীর পক্ষের হাদীছগুলো সহীহ বলা থেকে সকলেই বিরত থাকবেন এবং অন্যদেরকেও বিরত রাখার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ হাদীছের উপর আমল করার এবং জাল ও যঈফ হাদীছ বর্জন করার তাওফীক দিন। আমীন
  • Md Awlad O bondo