Monday, 22 June 2015

ok-তারাবীহ নিয়ে কিছু প্যাচালঃ-2015


তারাবীহ পড়ার নিয়ম ও পদ্ধতিঃ
২, ২ করে >> প্রতি ৪ রাক’আতে বিশ্রাম নিতে হয় এবং অন্যান্য সালাতের সহীহ রেওয়াতে আসা দোয়া সমুহ পড়া যায়।
বাড়ীতে তারাবী সালাত আদায় করলে ক্বিরআত স্বরবে পড়তে হবে। তবে উচ্চৈঃস্বরে নয়। (আবূ দাউদ, তিরমিযী মিশকাত হা/১২০৪, সনদ সহীহ)।
####‪#‎তারাবীহর‬ জন্য কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই তবে রাসূল (ছাঃ) শেষ দশ রাত্রের বেজোড় রাত্রে বিশেষ একটি দোয়া আয়েশা (রাঃ) শিখিয়ে দেন।
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউভুন তোহেব্বুল’আফওয়া কা’ফু ‘আন্নি’।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস অতএব আমাকে ক্ষমা কর। (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১ ও অন্যান্য)।
এ দোয়াটি পড়া যায়।
অতঃপর তিন রাক’আত একটানা বিতর পড়তে হয় এবং শেষে বৈঠক করতে হয়। (বুখারী হা/১১৪৭, তিরমিযী হা/৪৩৯ ও অন্যান্য)।
####‪#‎আমাদের‬ সমাজে চার রাক’আত পর দোয়া ‘সুবাহানযিল মুলকী’ পড়া হয় এর কোন দলীল নেই। (তবে ফতওয়ায়ে দারুল উলুম ৪/২৭১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে এই দোয়া পড়া যায়েজ তবে তাই পড়া জরুরী নয় বরং এই দোয়া কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়)।
******এ দোয়াটি একটি জাল হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, বলা হয়েছে আল্লাহর কিছু ফেরেশতা একটি নূরের সমুদ্রে এই দোয়াটি পাঠ করেন--- যে ব্যক্তি কোন দিবসে, মাসে বা বৎসরে এই দোয়াটি পাঠ করবে সে বহু পুরষ্কার লাভ করবে। (ইবনু ইরাক তানযিহু ২/৩২৬ পৃষ্ঠা)।
সহীহ সুত্রে হাদীসে যত দোয়া পাওয়া যায় তার মধ্যে এর কোন অস্তিত্ব নেই।
যা হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়। আর জাল হাদীস আমল অর্থাৎ রাসূল(ছাঃ)এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
এবং এর পর সম্মিলিত হাত তুলে মোনাজাত করা রাছুল(ছাঃ) এবং সাহাবাগণ করেন নি। অতএব এগুলো থেকে বিরত থাকাই উত্তম এবং না করাই সুন্নাত।
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

তারাবীহ সম্বন্ধে রাসূল (ছাঃ) -এর সহীহ দলীল সহ তিন প্রকার মত পাওয়া যায়।>>>তারাবী প্যাচাল পর্ব-৬ >>>পড়তে থাকুন >>>ওমর (রাঃ)টা ৫ম পর্বে <<এছাড়া>> সাহাবা কেরামগণের হাদীস (আছার) এর বিশ্লেষণ ও চার ইমামের তারাবী সম্বন্ধে অবস্থান কি?পড়তে থাকুন>> ####‪#‎মক্কা‬ মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী‘র তারাবীহঃ
মক্কা মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী উক্ত দুই মসজিদ ছাড়া সকল মসজিদেই ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া হয়। উক্ত দুই মসজিদে তারাবীর দুটি জাম‘আত অনুষ্টিত হয়। ১০ রাক‘আত পড়িয়ে একজন ইমাম চলে যান। অন্যজন এসে ১০ রাক‘আত পড়ান। অতঃপড় বিতর পড়েন। যাতে ব্যস্ত লোকেরা শেষের জাম‘আতে শরীক হতে পারে। সেখানে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস অনুযায়ী ১০ রাক‘আত ও শেষে ১ রাক‘আত বিতর সহ মোট ১১ রাক‘আত পড়া হয়। তবে ক্বিরআতের দীর্ঘতার কারণে উক্ত দুই জাম‘আতের ব্যবধান বর্তমান কমে গেছে। এরুপ ঢাকাতেও অনেক মসজিদে রয়েছে। অতএব সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে উক্ত নিয়ম চলে আসছে তা ভ্রান্তিপূর্ণ।(পিস টিভি আলোচক,শায়খ মুযাফর বিন মহসিন )
কারণ সাহাবীগণের যুগে এর অস্তিত্ব ছিলনা। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের সহীহ আছারের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত এই জমা‘আতের ধারা চালু হয়েছে সাহাবীদেরও যুগ শেষ হবার অনেক পরে। যেমনটি ইবনে তায়মিয়াহ(রহঃ) ইংঙ্গিত দিয়েছেন।
{আল্লামা হাফেজ যায়লাঈ,(হানাফী)নাছবুর রায়াহ(রিয়ায:আল-মাকতাবুল ইসলামিয়াহ,১৯৭৩খৃঃ ১৩৯৩হিঃ),২য় খন্ড,পৃঃ১৫৩; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া,২৩/১১৩পৃঃ)}

#১। ইবনে মাসউদ (রাঃ) সুত্রে বর্নিত হাদীস (আছার) দিয়ে যা যাইদ বিন ওয়াহ্হাব হতে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রমাযান মাসে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন অতঃপর ফিরে গেলেন। আর তখনও রাত্রি ছিল। আ’মাশ বলেনঃ তিনি ২০ রাক’আত আদায় করলেন এবং ৩ রাক’আত বিতর পড়লেন। (ইবনু নসর ‘কিয়ামুল লাইল’ পৃষ্ঠা নং-৯১)।
বর্ণনাটি জ্বাল। শেষাংশটুকু জাল করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আ’মাশ কর্তৃক বর্ণিত শেষাংশ ভিত্তিহীন, পূর্বের অংশটুকু ত্বাবারানীতে এসেছে। কিন্তু তা যঈফ ও মুনকার। যেমন,আল্লামা মুবারক পুরী “তুহফাতুলআওয়াযী”গ্রন্থে (২/৭৫) তে বলেছেন সনদটি বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতে,কেননা আ’মাশ ইবনু মাসউদের যুগ পাননি (অর্থাৎ মাসউদের যামানায় তার অস্তিত্ব ছিল না)। আর তাবারানী উক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করতে যেয়ে আ’মাশের কথা উল্লেখই করেন নি। এছাড়াও আ’মাশের সনদে মুখস্ত শক্তি দুর্বল একজন রাবী থাকার আশংকা করেছেন। (বিস্তারীত আল মাজুমা ৩/১৭২)।

#২। উবাই বিন কা’ব সুত্রে দু’টি আছার পাওয়া যায়। যা বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবা ‘মুসান্নাফ’ (২/৯০/১) গ্রন্থে আব্দুল আযিয বিন রাফি বলেন, ‘উবাই বিন কা’ব রমাযান মাসে মদীনায় লোকদের সাথে ২০ রাক’আত (তারাবীহ) সালাত আদায় করেছেন এবং ৩ রাক’আত বিতর আদায় করেছেন’।
এই সনদে আব্দুল আযীয ও উবাই এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা (মুনাকাতে) রয়েছে কারন উবায়ের মৃত্যু ব্যবধান ১০০ বছর বা তার চেয়ে বেশী সময়।
(তাহযীবুত তাহযীব বা অন্যান্য গ্রন্থ)।

#৩। ‘উবাই ইবনে কা’ব তিনি তাদের সঙ্গে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করলেন’। এর সনদে আবু জাফর রাযী নামে একজন রাবী রয়েছে যার প্রকৃত নাম হলো ঈসা বিন আবি ঈসা বিন মাহান, হাদীস বিশ্লেষকগণ সর্বসম্মতী ভাবে তাকে দুর্বল, যঈফ, সন্দেহযুক্ত ও মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী বলেছেন। ইমাম যাহাবী ‘যুআফ’ গ্রন্থে তাকে অধিক সন্দেহ প্রবন বলেছেন। , আহমাদ ‘ফাল্লাস’ বলেছেন ‘স্মৃতি শক্তির দুর্বলতা’। হাফিয (রহঃ) ‘তাকবীর’ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। ইবনুল জাওযী ‘যাদুল মাওয়াদ’ ১/৯৯ পৃষ্ঠায় মুনকার বলেছেন।
আলী সুত্রে দু’টি হাদীস (আছার) ঃ

#৪। ‘আবুল হাসানাহ বলেন, “আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন’। (মুসান্নাফ আবু শাইবা ২য় খন্ড, বায়হাকী ২/৪৯৭)।
বায়হাকী বর্ণনা করে বলেছেন এ সনদে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম যাহাবি (রহঃ) বলেছেন সে কে তা জানা যায়নি। হাফিয (রহঃ) বলেছেন, সে অজ্ঞাত। বিস্তারীত দেখুন হাফিয (রহঃ) এর তরজমা ‘তাহাযীব’ গ্রন্থে।

#৫। “আলী (রাঃ) রমাযানে ক্বারী আহ্বান করলেন এবং তাদের মধ্যেকার এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করানোর নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) তাদের সঙ্গে বিতর পড়েছিলেন”। (বায়হাকী ২/৪৯২)।
এর সনদে‘আত্বা বিন সায়েব’ একজন, সে ভুলত্রুটিতে সংমিশ্রন করতো। আরও একজন ‘হাম্মান বিন শুআইব’ ইমাম বুখারী প্রথমে ইশারা করেছেন, তার ব্যপারে প্রশ্ন রয়েছে দ্বিতীবার বলেছেন ‘সে হাদীসে অস্বীকৃত’ যার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করা বৈধ নয়।(ইবনুল কাছিরের “মুখতাসার উলুমুল হাদীস” ও তুহফাতুল আওয়াযী ২/৭৫ পৃঃ)।

#৬। আত্বা বলেন, আমি লোকদের বিতর সহ ২৩ রাক’আত সালাত আদায় করা অবস্থায় পেয়েছি। (ইবনু আবী শায়বা ২/২৮৫)।
বর্ণনার সনদে মুনকার রাবী আত্বা ইবনু সায়েব এর সম্বন্ধে ইমাম যাহাবী বলেন এর বর্ণনাগুলো এলোমেলো কারণ তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল।(মীযানুল ইতিদাল ৩/৭০ পৃষ্ঠা)।
ইবনু মুঈন বলেন তার বর্ণনা গুলো মিশ্রীত। তার কোন সহীহ হাদীস নেই। তাকে পরিত্যাগ কর। তার বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহন করা হয় না।(মিযানুল ইতিদাল ৩/৭১ পৃষ্ঠা)।
আহমাদ ইবনে আবী খায়ছামা বলেন, তার সমস্ত হাদীসই যঈফ। (ঐ)।
#****->এছাড়াও বিভিন্ন সাহাবা ও তবেঈ যে সব আছার এসেছে সবই যঈফ না হয় জাল।

####‪#‎চার‬ ইমামের তারাবী সম্বন্ধে অবস্থান কি? 
###‪#‎আল‬-হিদায়া ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ১২৬ ইঃ ফাঃ- এ পাওয়া যায় মুস্তাহাব এই যে, মানুষ রমাযান মাসে ‘ঈশা’র পরে একত্রে হবে এবং ইমাম সাহেব পাঁচ তারবীহা পড়বেন। প্রতিটি তারবীহা (৪ রাক’আত) দুই সালামে হবে, এবং প্রতিটি তারবীহার পরে এক তারবীহা পরিমাণ বসবে। (তার-বিহ শব্দের অর্থ প্রশান্তির বৈঠক) এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। এখানে ইমাম কূদুরী বলেছেন এটা ‘মুস্তাহাব’। হাসান ইবনে যিয়াদ ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু হানীফা বলেছেন তা ‘সুন্নাত’।
কেননা উমর (রাঃ),ওসমান (রাঃ)ও আলী (রাঃ) এই তিন খুলাফায়ে রাশেদীন তা নিয়মিত পাঁচ তারবীহা (প্রতি তারবীহা=৪ রাক’আত) আদায় করেছেন। আর নবী তা নিয়মিত করেন নি কারণ ফরয হয়ে যাবার ভয় ছিল। (ইমাম আবূ হানীফার নামে ২০ রাক’আত তারাবীহর যে কথা প্রচলিত আছে তা কোন সুত্র থেকে এসছে তার প্রমাণ মেলেনি)।
ইমাম আবূ হানীফাঃ ইমাম আবূ হানীফার পক্ষ থেকে তার অনুসারীরা বলে থাকেন যে, তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আত। ইমাম আবূ ইউছুফ (রহঃ) তাকে তারাবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উমর (রাঃ) এর যুগের দিকে ইঙ্গীত করেন এবং ২০ রাক’আতের কথা বলেন।(আল আরফুশ শাযী, শরহে তিরমীযি সহ ১/১০১ ও ১৬৬ পৃষ্ঠা)।
কিন্তু উক্ত বক্তব্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায় না। যেমন, আল্লামা আনোয়ার কাশ্মিরী হানাফী নিজেই প্রতিবাদ করে বলেছেন, যদিও উক্ত কথা নির্ভরযোগ্য আমাদের কাছে পৌছায়নি। (ঐ)

#####‪#‎ইমাম‬ মালিকঃ ইমাম মালেকের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ মুহাদ্দিস আবুল মানসুর আল যুরী ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকদেরকে যার উপর একত্রিত করেছিলেন, আমার নিকট তাই সর্বাধিক পছন্দনীয়। আর তিনি যা চালু করেছিলেন তা ছিল ১১ রাক’আত। আর এটাই ছিল রাসূল (ছাঃ) এর সালাত। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হলো, বিতর সহ ১১ রাক’আত? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপর মুহাদ্দিস আল যুরী বিস্ময়ের সাথে বলেন, আমি অবগত নয় যে, কোথা থেকে তার নামে এর অধিক রাক’আত সংখ্যা আবিষ্কৃত হলো! (সালাতুত তারাবীহ পৃষ্ঠা-৭৯)। অতঃপর সর্বশেষ অভিমত সম্পর্কে তিনি বলেন, তারাবীহ সালাত ১১ রাক’আত এটা ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত এবং তাই তিনি তার নিজের জন্য গ্রহন করেছেন। আর ইমাম আবূ বকর ইবনুল আরাবীও তাই গ্রহন করেছেন। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৮০/২০১০)।
অবশ্য ইমাম মালিক (রহঃ) থেকেও ৩৬ রাক’আতের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম মালিক নিজে ১১ রাক’আত তারাবীহ আদায় করতেন যা রাসূল(ছাঃ) হতে প্রমাণিত।(হাসিয়া মুওয়াত্বা পৃষ্ঠা-৭১; তুহফাতুল আহওয়াযী, তিরমিযী হাদীছ ৮০৩ এর ব্যাখ্যা ৩/৫২৬-৩২)।

######ইমাম শাফেঈ এ সম্বন্ধে ইমাম শাফেঈর কোন স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৭; ফাতহুল বারী ৪/৩১৯ পৃঃ)।
ইমাম তিরমীযি উমর ও আলী (রাঃ) এর নামে কথিত ২০ রাক’আতের ব্যাপারে ইমাম শাফেঈর যে সমর্থন তুলে ধরেছেন তা দুর্বল অভিযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ তিনি উক্ত বক্তব্য رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উদ্বৃত করেছেন। (তিরমীযি হা/৮০৬ এর আলোচনা ১/৬৬ পৃষ্ঠা)।
ইমাম শাফেঈর উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে ইমাম বায়হাক্বী বলেছেন, এটা আলেমদের ঐতিহাসিক কল্পনা মাত্র। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৫, হা/১৪৪১)।
মুহাদ্দিসগণের নীতি হলো, কোন অপ্রমানিত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উদ্বৃত করলে তারা رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উল্লেখ করেন।(মুসলিম মুকাদ্দামা শরহে নববী সহ ১/৮ পৃষ্ঠা, অনুচ্ছেদ ১ এর ভাষ্য)।
অতএব বুঝা যায় ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ২০ রাক’আত বর্ণনাকে নিজেই দুর্বল ও কথিত বলতে চেয়েছেন।

#####ইমাম আহমাদঃ মূগনী ১ম খন্ডে ৭৯৮-৯৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ইমাম আহমাদের মতে তারাবীহ ২০ রাক’আত। কিন্তু ফতোয়ায়ে মাজমু তে ২৩/১১২-১৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইমাম আহমাদ এ সম্বন্ধে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার বিরোধী ছিলেন।
######ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহঃ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) তারাবীর রাক’আত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন আলেমদের মতামত পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি ২০, ৩৯ এবং ১৩ রাক’আতের মোট ৩টি মত উল্লেখ করেছেন। মূলত তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের ন্যায় অনির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার পক্ষে যেমন তিনি মতামত উল্লেখ করার পর বলেছেন, সোজা কথা এই যে, উক্ত প্রত্যেকটি মতই ভালো। যেমন, ইমাম আহমাদ উক্ত বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বিয়ামে রমাযান সম্পর্কে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি।(ফতয়ায়ে মাজমু ২৩ খন্ড ১১২-১৩ পৃষ্ঠা)।
অবশেষে ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এ সম্বন্ধে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বলেন, অবশ্য রাসূল (ছাঃ) ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার মাধ্যমে ১১ বা ১৩ রাক’আতই পড়েছেন। অতঃপর সাধারণ লোকজন দুর্বলতার কারণে ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার পরিবর্তে রাক’আত সংখ্যা ৩৯ পর্যন্ত করেছেন।(ফতয়ায়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/১১৩ পৃষ্ঠা)।চলবে প্যাচাল>>

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

তারাবীহ সম্বন্ধে রাসূল (ছাঃ) -এর সহীহ দলীল সহ তিন প্রকার মত পাওয়া যায়।>>>তারাবী প্যাচাল পর্ব-৬ >>>পড়তে থাকুন >>>ওমর (রাঃ)টা ৫ম পর্বে <<এছাড়া>> সাহাবা কেরামগণের হাদীস (আছার) এর বিশ্লেষণ ও চার ইমামের তারাবী সম্বন্ধে অবস্থান কি?পড়তে থাকুন>> ####‪#‎মক্কা‬ মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী‘র তারাবীহঃ
মক্কা মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী উক্ত দুই মসজিদ ছাড়া সকল মসজিদেই ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া হয়। উক্ত দুই মসজিদে তারাবীর দুটি জাম‘আত অনুষ্টিত হয়। ১০ রাক‘আত পড়িয়ে একজন ইমাম চলে যান। অন্যজন এসে ১০ রাক‘আত পড়ান। অতঃপড় বিতর পড়েন। যাতে ব্যস্ত লোকেরা শেষের জাম‘আতে শরীক হতে পারে। সেখানে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস অনুযায়ী ১০ রাক‘আত ও শেষে ১ রাক‘আত বিতর সহ মোট ১১ রাক‘আত পড়া হয়। তবে ক্বিরআতের দীর্ঘতার কারণে উক্ত দুই জাম‘আতের ব্যবধান বর্তমান কমে গেছে। এরুপ ঢাকাতেও অনেক মসজিদে রয়েছে। অতএব সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে উক্ত নিয়ম চলে আসছে তা ভ্রান্তিপূর্ণ।(পিস টিভি আলোচক,শায়খ মুযাফর বিন মহসিন )
কারণ সাহাবীগণের যুগে এর অস্তিত্ব ছিলনা। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের সহীহ আছারের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত এই জমা‘আতের ধারা চালু হয়েছে সাহাবীদেরও যুগ শেষ হবার অনেক পরে। যেমনটি ইবনে তায়মিয়াহ(রহঃ) ইংঙ্গিত দিয়েছেন।
{আল্লামা হাফেজ যায়লাঈ,(হানাফী)নাছবুর রায়াহ(রিয়ায:আল-মাকতাবুল ইসলামিয়াহ,১৯৭৩খৃঃ ১৩৯৩হিঃ),২য় খন্ড,পৃঃ১৫৩; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া,২৩/১১৩পৃঃ)}

#১। ইবনে মাসউদ (রাঃ) সুত্রে বর্নিত হাদীস (আছার) দিয়ে যা যাইদ বিন ওয়াহ্হাব হতে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রমাযান মাসে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন অতঃপর ফিরে গেলেন। আর তখনও রাত্রি ছিল। আ’মাশ বলেনঃ তিনি ২০ রাক’আত আদায় করলেন এবং ৩ রাক’আত বিতর পড়লেন। (ইবনু নসর ‘কিয়ামুল লাইল’ পৃষ্ঠা নং-৯১)।
বর্ণনাটি জ্বাল। শেষাংশটুকু জাল করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আ’মাশ কর্তৃক বর্ণিত শেষাংশ ভিত্তিহীন, পূর্বের অংশটুকু ত্বাবারানীতে এসেছে। কিন্তু তা যঈফ ও মুনকার। যেমন,আল্লামা মুবারক পুরী “তুহফাতুলআওয়াযী”গ্রন্থে (২/৭৫) তে বলেছেন সনদটি বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতে,কেননা আ’মাশ ইবনু মাসউদের যুগ পাননি (অর্থাৎ মাসউদের যামানায় তার অস্তিত্ব ছিল না)। আর তাবারানী উক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করতে যেয়ে আ’মাশের কথা উল্লেখই করেন নি। এছাড়াও আ’মাশের সনদে মুখস্ত শক্তি দুর্বল একজন রাবী থাকার আশংকা করেছেন। (বিস্তারীত আল মাজুমা ৩/১৭২)।

#২। উবাই বিন কা’ব সুত্রে দু’টি আছার পাওয়া যায়। যা বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবা ‘মুসান্নাফ’ (২/৯০/১) গ্রন্থে আব্দুল আযিয বিন রাফি বলেন, ‘উবাই বিন কা’ব রমাযান মাসে মদীনায় লোকদের সাথে ২০ রাক’আত (তারাবীহ) সালাত আদায় করেছেন এবং ৩ রাক’আত বিতর আদায় করেছেন’।
এই সনদে আব্দুল আযীয ও উবাই এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা (মুনাকাতে) রয়েছে কারন উবায়ের মৃত্যু ব্যবধান ১০০ বছর বা তার চেয়ে বেশী সময়।
(তাহযীবুত তাহযীব বা অন্যান্য গ্রন্থ)।

#৩। ‘উবাই ইবনে কা’ব তিনি তাদের সঙ্গে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করলেন’। এর সনদে আবু জাফর রাযী নামে একজন রাবী রয়েছে যার প্রকৃত নাম হলো ঈসা বিন আবি ঈসা বিন মাহান, হাদীস বিশ্লেষকগণ সর্বসম্মতী ভাবে তাকে দুর্বল, যঈফ, সন্দেহযুক্ত ও মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী বলেছেন। ইমাম যাহাবী ‘যুআফ’ গ্রন্থে তাকে অধিক সন্দেহ প্রবন বলেছেন। , আহমাদ ‘ফাল্লাস’ বলেছেন ‘স্মৃতি শক্তির দুর্বলতা’। হাফিয (রহঃ) ‘তাকবীর’ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। ইবনুল জাওযী ‘যাদুল মাওয়াদ’ ১/৯৯ পৃষ্ঠায় মুনকার বলেছেন।
আলী সুত্রে দু’টি হাদীস (আছার) ঃ

#৪। ‘আবুল হাসানাহ বলেন, “আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন’। (মুসান্নাফ আবু শাইবা ২য় খন্ড, বায়হাকী ২/৪৯৭)।
বায়হাকী বর্ণনা করে বলেছেন এ সনদে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম যাহাবি (রহঃ) বলেছেন সে কে তা জানা যায়নি। হাফিয (রহঃ) বলেছেন, সে অজ্ঞাত। বিস্তারীত দেখুন হাফিয (রহঃ) এর তরজমা ‘তাহাযীব’ গ্রন্থে।

#৫। “আলী (রাঃ) রমাযানে ক্বারী আহ্বান করলেন এবং তাদের মধ্যেকার এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করানোর নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) তাদের সঙ্গে বিতর পড়েছিলেন”। (বায়হাকী ২/৪৯২)।
এর সনদে‘আত্বা বিন সায়েব’ একজন, সে ভুলত্রুটিতে সংমিশ্রন করতো। আরও একজন ‘হাম্মান বিন শুআইব’ ইমাম বুখারী প্রথমে ইশারা করেছেন, তার ব্যপারে প্রশ্ন রয়েছে দ্বিতীবার বলেছেন ‘সে হাদীসে অস্বীকৃত’ যার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করা বৈধ নয়।(ইবনুল কাছিরের “মুখতাসার উলুমুল হাদীস” ও তুহফাতুল আওয়াযী ২/৭৫ পৃঃ)।

#৬। আত্বা বলেন, আমি লোকদের বিতর সহ ২৩ রাক’আত সালাত আদায় করা অবস্থায় পেয়েছি। (ইবনু আবী শায়বা ২/২৮৫)।
বর্ণনার সনদে মুনকার রাবী আত্বা ইবনু সায়েব এর সম্বন্ধে ইমাম যাহাবী বলেন এর বর্ণনাগুলো এলোমেলো কারণ তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল।(মীযানুল ইতিদাল ৩/৭০ পৃষ্ঠা)।
ইবনু মুঈন বলেন তার বর্ণনা গুলো মিশ্রীত। তার কোন সহীহ হাদীস নেই। তাকে পরিত্যাগ কর। তার বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহন করা হয় না।(মিযানুল ইতিদাল ৩/৭১ পৃষ্ঠা)।
আহমাদ ইবনে আবী খায়ছামা বলেন, তার সমস্ত হাদীসই যঈফ। (ঐ)।
#****->এছাড়াও বিভিন্ন সাহাবা ও তবেঈ যে সব আছার এসেছে সবই যঈফ না হয় জাল।

####‪#‎চার‬ ইমামের তারাবী সম্বন্ধে অবস্থান কি? 
###‪#‎আল‬-হিদায়া ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ১২৬ ইঃ ফাঃ- এ পাওয়া যায় মুস্তাহাব এই যে, মানুষ রমাযান মাসে ‘ঈশা’র পরে একত্রে হবে এবং ইমাম সাহেব পাঁচ তারবীহা পড়বেন। প্রতিটি তারবীহা (৪ রাক’আত) দুই সালামে হবে, এবং প্রতিটি তারবীহার পরে এক তারবীহা পরিমাণ বসবে। (তার-বিহ শব্দের অর্থ প্রশান্তির বৈঠক) এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। এখানে ইমাম কূদুরী বলেছেন এটা ‘মুস্তাহাব’। হাসান ইবনে যিয়াদ ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু হানীফা বলেছেন তা ‘সুন্নাত’।
কেননা উমর (রাঃ),ওসমান (রাঃ)ও আলী (রাঃ) এই তিন খুলাফায়ে রাশেদীন তা নিয়মিত পাঁচ তারবীহা (প্রতি তারবীহা=৪ রাক’আত) আদায় করেছেন। আর নবী তা নিয়মিত করেন নি কারণ ফরয হয়ে যাবার ভয় ছিল। (ইমাম আবূ হানীফার নামে ২০ রাক’আত তারাবীহর যে কথা প্রচলিত আছে তা কোন সুত্র থেকে এসছে তার প্রমাণ মেলেনি)।
ইমাম আবূ হানীফাঃ ইমাম আবূ হানীফার পক্ষ থেকে তার অনুসারীরা বলে থাকেন যে, তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আত। ইমাম আবূ ইউছুফ (রহঃ) তাকে তারাবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উমর (রাঃ) এর যুগের দিকে ইঙ্গীত করেন এবং ২০ রাক’আতের কথা বলেন।(আল আরফুশ শাযী, শরহে তিরমীযি সহ ১/১০১ ও ১৬৬ পৃষ্ঠা)।
কিন্তু উক্ত বক্তব্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায় না। যেমন, আল্লামা আনোয়ার কাশ্মিরী হানাফী নিজেই প্রতিবাদ করে বলেছেন, যদিও উক্ত কথা নির্ভরযোগ্য আমাদের কাছে পৌছায়নি। (ঐ)

#####‪#‎ইমাম‬ মালিকঃ ইমাম মালেকের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ মুহাদ্দিস আবুল মানসুর আল যুরী ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকদেরকে যার উপর একত্রিত করেছিলেন, আমার নিকট তাই সর্বাধিক পছন্দনীয়। আর তিনি যা চালু করেছিলেন তা ছিল ১১ রাক’আত। আর এটাই ছিল রাসূল (ছাঃ) এর সালাত। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হলো, বিতর সহ ১১ রাক’আত? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপর মুহাদ্দিস আল যুরী বিস্ময়ের সাথে বলেন, আমি অবগত নয় যে, কোথা থেকে তার নামে এর অধিক রাক’আত সংখ্যা আবিষ্কৃত হলো! (সালাতুত তারাবীহ পৃষ্ঠা-৭৯)। অতঃপর সর্বশেষ অভিমত সম্পর্কে তিনি বলেন, তারাবীহ সালাত ১১ রাক’আত এটা ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত এবং তাই তিনি তার নিজের জন্য গ্রহন করেছেন। আর ইমাম আবূ বকর ইবনুল আরাবীও তাই গ্রহন করেছেন। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৮০/২০১০)।
অবশ্য ইমাম মালিক (রহঃ) থেকেও ৩৬ রাক’আতের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম মালিক নিজে ১১ রাক’আত তারাবীহ আদায় করতেন যা রাসূল(ছাঃ) হতে প্রমাণিত।(হাসিয়া মুওয়াত্বা পৃষ্ঠা-৭১; তুহফাতুল আহওয়াযী, তিরমিযী হাদীছ ৮০৩ এর ব্যাখ্যা ৩/৫২৬-৩২)।

######ইমাম শাফেঈ এ সম্বন্ধে ইমাম শাফেঈর কোন স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৭; ফাতহুল বারী ৪/৩১৯ পৃঃ)।
ইমাম তিরমীযি উমর ও আলী (রাঃ) এর নামে কথিত ২০ রাক’আতের ব্যাপারে ইমাম শাফেঈর যে সমর্থন তুলে ধরেছেন তা দুর্বল অভিযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ তিনি উক্ত বক্তব্য رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উদ্বৃত করেছেন। (তিরমীযি হা/৮০৬ এর আলোচনা ১/৬৬ পৃষ্ঠা)।
ইমাম শাফেঈর উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে ইমাম বায়হাক্বী বলেছেন, এটা আলেমদের ঐতিহাসিক কল্পনা মাত্র। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৫, হা/১৪৪১)।
মুহাদ্দিসগণের নীতি হলো, কোন অপ্রমানিত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উদ্বৃত করলে তারা رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উল্লেখ করেন।(মুসলিম মুকাদ্দামা শরহে নববী সহ ১/৮ পৃষ্ঠা, অনুচ্ছেদ ১ এর ভাষ্য)।
অতএব বুঝা যায় ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ২০ রাক’আত বর্ণনাকে নিজেই দুর্বল ও কথিত বলতে চেয়েছেন।

#####ইমাম আহমাদঃ মূগনী ১ম খন্ডে ৭৯৮-৯৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ইমাম আহমাদের মতে তারাবীহ ২০ রাক’আত। কিন্তু ফতোয়ায়ে মাজমু তে ২৩/১১২-১৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইমাম আহমাদ এ সম্বন্ধে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার বিরোধী ছিলেন।
######ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহঃ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) তারাবীর রাক’আত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন আলেমদের মতামত পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি ২০, ৩৯ এবং ১৩ রাক’আতের মোট ৩টি মত উল্লেখ করেছেন। মূলত তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের ন্যায় অনির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার পক্ষে যেমন তিনি মতামত উল্লেখ করার পর বলেছেন, সোজা কথা এই যে, উক্ত প্রত্যেকটি মতই ভালো। যেমন, ইমাম আহমাদ উক্ত বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বিয়ামে রমাযান সম্পর্কে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি।(ফতয়ায়ে মাজমু ২৩ খন্ড ১১২-১৩ পৃষ্ঠা)।
অবশেষে ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এ সম্বন্ধে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বলেন, অবশ্য রাসূল (ছাঃ) ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার মাধ্যমে ১১ বা ১৩ রাক’আতই পড়েছেন। অতঃপর সাধারণ লোকজন দুর্বলতার কারণে ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার পরিবর্তে রাক’আত সংখ্যা ৩৯ পর্যন্ত করেছেন।(ফতয়ায়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/১১৩ পৃষ্ঠা)।চলবে প্যাচাল>>
[https://www.facebook.com/groups/1401502403508487/permalink/1417498921908835/]

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++



তারাবীহ সম্বন্ধে রাসূল (ছাঃ) -এর সহীহ দলীল সহ তিন প্রকার মত পাওয়া যায় += তারাবী ৪ প্যাচাল পর্ব >>>
১। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)এর সহীহ সুন্নাহ মতে রমাযানে রাতের (তারাবীহ) সালাত ৮ রাক’আত বিতর সহ ১১ রাক’আত অথবা ১৩ রাক’আত এটিই রসুল (ছাঃ) নিজ্বস্ব আমল এ ছাড়া তার পক্ষ থেকে অধিক রাক‘আত এর সমর্থন পাওয়া যায় এবংমক্কা মদীনার কত রাক‘আত পড়া হয়? দেখুন আলোচনা
>>>>>>>>রাসূল (ছাঃ) রমাযান মাসে কত রাক’আত রাতের (তারাবীহ) সালাত আদায় করেছেনঃ
১। আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ রমাযান মাসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর সালাত কিরূপ (কত রাক’আত) ছিল? তখন তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ রমাযান এবং রমাযান ব্যতীত অন্য মাসে ১১ রাক’আতের বেশী সালাত আদায় করেননি। তিনি ৪ রাক’আত আদায় করতেন, তুমি তার (সালাতের) সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা শুনে অবাক হয়ে যেওনা। তারপর ৪ রাক’আত আদায় করতেন। তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা শুনে তুমি অবাক হয়ে যেওনা। তারপর তিনি ৩ রাক’আত আদায় করতেন।(  
Reference : Sahih al-Bukhari 1147
In-book reference : Book 19, Hadith 28
USC-MSA web (English) reference : Vol. 2, Book 21, Hadith 248
  (deprecated numbering scheme)
(http://sunnah.com/bukhari/19)  
(বুখারী হা/১১৪৭, আবু দাউদ হা/১৩৪১, মুসলিম হা/১৭২৩, তিরমিযী হা/৪৩৯, নাসাঈ হা/১৬৯৭, আহমাদ হা/২৪৮০১)।

২। অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, আমাদের নিয়ে রমযানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ৮ রাক’আত আদায় করেছেন এবং বিতর আদায় করেছেন । (সহীহ ইবনে হিব্বান হা/৯২০; খুযায়ামা হা/১০৭০)।
এছাড়া ইবনু আবী শায়বার বর্ণনায় ২/১১৬/১ মুসলিম ও এদের ছাড়া অন্যান্য
দের বর্ণনায় ১৩ রাক’আতের বেশী ছিল না।

৩। আবু ইয়ালা যাবিরের হাদীস আব্দুল্লাহ সুত্রে তিনি বলেন, উবাই ইবনে কা’ব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)এর নিকট এসে বলল হে আল্লাহর রাসূল! রমযানের রাত্রে আমার কাছে একটা ব্যাপার ঘটে গেছে। তিনি বললেন সেটা কি হে উবাই! উবাই বলল, আমার ঘরের নারীরা বলল, আমরা কোরআন পড়ব না। বরং তোমার সাথে সালাত আদায় করবো। উবাই বলল, ফলে আমি তাদের নিয়ে ৮ রাক’আত আদায় করলাম এবং বিতর আদায় করলাম।
(আবূ ইয়ালা ৪/৩৬৯ হা/১৭৬১; আব্দুল্লাহ ইবনে আমাদ আল মুসনাদ ৫/১১৫ পৃঃ; মাজমাউয যাওয়াদী সনদ হাসান)।

৪। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে রাতের সালাত ১৩ রাক’আতের একটি হাদীস লিপিবদ্ধ আছে। (তিরমিযী হা/৪৪২, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)।
ইল্মে হাদীস বিশেষজ্ঞরা বলেন এর মধ্যে দু’রাকাত ফজরের সুন্নাত অথবা ৫ রাক’আত বিতর ছিল।

>>>>>>>>>>>>উল্লেখ্য ইমাম বুখারী (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) এর হাদীসটি তারাবীহর সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। (বুখারী হা/২০১৩, ১/২৬৯ পৃষ্ঠা)।
তিনি ‘তাহাজ্জুদ’ অধ্যায়ে ‘রমাযান ও অন্যান্য মাসে রাসূল (ছাঃ) এর রাত্রির সালাত’ অনুচ্ছেদে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। (বুখারী হা/১১৪৭, পৃষ্ঠা- ১/১৫৪)।
এছাড়া অন্য ‘মানবিক’ অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ২৪ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।(বুখারী হা/৩৫৬৯, পৃষ্ঠা-১/৫০৪)।
আরও উল্লেখ্য যে, ইমাম বুখারী (রহঃ) এর মূল গ্রন্থে উক্ত শিরোনাম উল্লেখ করলেও ভারত উপমহাদেশের ছাপা সহীহ বুখারী হাদীস গ্রন্থে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এবং এ থেকেই তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক সালাতের কথা বলা হচ্ছে।
আমাদের দেশে অনেক আলেমকে মিডিয়ার মাধ্যমে বলতে দেখা যাচ্ছে ২০ রাক’আত তারাবীহ ও ১১ রাক’আত তাহাজ্জুদ।
****যারা বলেন তাদের কাছে প্রশ্ন নবী (ছাঃ) রমযানে যে ৩ রাত্রী লোকদের নিয়ে সাহারীর আগ পর্যন্ত সালাত আদায় করেছিলেন তাহাজ্জুদ কখন আদায় করেছিলেন?

অতএব সত্য এই যে, রমাযান মাসে প্রথম রাতে তারাবীহ আদায় করলে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতে হয় না। (আবু দাউদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/-১২৯৮)
>>>>>>>>তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আতের বর্ণনাঃ
১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীস ২০ রাক’আতের পক্ষে এই একটিই হাদীস আছে যা পেশ করা হয়।এবং রং চং ইনয়ে বিনিয়ে নিদৃষ্ট রছূল (ছাঃ)এর সালাত বিশ রাক‘আত বানানোর প্রচেষ্টা করে থকেন। *****কিন্তু দুঃখের বিষয় তা নিতান্তই যঈফ দলীলের যোগ্য কেউ কেউ মওজু বা জালও বলেছেন । 
হাদীসটি হলোঃরাসূলুল্লাহ(ছাঃ) রমাযান মাসে ২০ রাক’আত এবং বিতর সালাত আদায় করতেন। এই হাদীসটি নিতান্তই যঈফ তো বটে তারপর উক্ত সাহাবা(রাঃ) হতে বর্ণিত (রাতের সলাত সম্ভন্ধে) বর্নিত সহীহ হাদীসের বিরোধী।
ইবনু হাজার ও হাফিয যাঈলায়ীর ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে (২/১৫৩)তে এ ধরণের অর্থ গ্রহন করেছেন। ইমাম সূয়ুতী বলেছেন, হাদীসটির দোষ হলোঃ এতে রয়েছে আবু শায়বা ইবরাহীম বিন উসমান। তার সম্পর্কে আল্লামা ইবনু হাজার ‘তাকবীর’ গ্রন্থে বলেছেন, তার হাদীস পরিত্যাজ্য, এছাড়াও আমি অন্যান্য সনদ খুজেছি আবু শায়বার সনদ ছাড়া অন্য সনদ পাওয়া যায় না। প্রত্যেক হাদীস বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন হাদীসটি অত্যন্ত যঈফ। ইবনু মঈন বলেছেন সে নির্ভরযোগ্য নয়। জুযজানী বলেছেন, তিনি শাকেত “বর্জিত ব্যক্তি”। শোবা তার ঘটনাকে মিথ্যা বলেছে। ইমাম বুখারী বলেছেনঃ ‘সাকতু আনহু’ তার ব্যপারে মুহাদ্দিসগণ নিরবতা পালন করেছেন। হাফিয ইবনু কাসীর “ইখতিসারু উলুমিল হাদীস” গ্রন্থে (১১৮ পৃষ্ঠায়) ইমাম বুখারীর কথা উল্লেখ করে বলেছেন আয়েশা ও যাবিরের বিরোধিতার কারণে তার হাদীসটি জাল হাদীসের অন্তর্ভূক্ত। তিনি অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ভুক্ত। শাইখ নাসীরুদ্দীন আলবানী হাদীসটি জাল সাব্যস্ত করেছেন। হাফেয আল্লামা যাহাবী বলেন, আবু শাইবা মিথ্যাবাদী। (খোলছা পৃঃ-২০)।

######‪#‎রাতের‬ (তারাবীহ) সালাত ৮ রাক’আত বিতর সহ ১১ রাক’আত অথবা ১৩ রাক’আত ছাড়াও রাসূল (ছাঃ) এর পক্ষ থেকে অধিক রাক‘আত এর সমর্থন###### ।
দলীল>>>>>> সহীহ বুখারীর বর্ণনায় হা/৯৯০ এসেছে যে,রাসূলুল্লাহ- খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতবস্থায় জনৈক ব্যক্তি এসে রসূল (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, রাত্রির সালাত কিভাবে পড়তে হবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ- বলেন, ২, ২ করে। ভাষ্যকার ইবনু হাজার বলেন, জবাবে এটা স্পষ্ট হয় যে,ঐ ব্যক্তি রাক‘আত সংখ্যা অথবা (চার রাক‘আত) পৃথক ভাবে না মিলিয়ে পড়তে হবে, সেকথা জিজ্ঞেস করেছিল’।(ফাৎহুল বারী হা/৯৯০‘বিতর’ অধ্যায়-১৪,২/৫৫৫-৫৬;মির‘আত ৪/২৫৬)
রাসূল (ছাঃ) বলেন, রাতের নফল সালাত ২, ২ অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন ১ রাক’আত পড়ে নেয়। যা তার পুর্বের কার সালাতকে বিতরে পরিনত করবে। (মুত্তাফাক আলাইহি; মিশকাত হা/১২৫৫)।
উল্লেখ্য উক্ত নির্দেশে দেওয়ার সময় রাতের সালাতের নির্দিষ্ট রাক‘আত নির্ধারণ করেননি; না রমাযান এবং না অরমযানের।
তাছাড়া রাসূল(ছাঃ) নিজেই ১৩ রাক‘আত পড়েছেন। আর তা ঐ কথার দলীল যে রাতের সালাতের ব্যপারে কোন সংকীর্ণতা নেই অর্থাৎ তার এমন কোন নির্দিষ্ট রাক‘আত-সংখ্যা নেই যার অন্যথা করা যাবেনা। (রঃ ফাঃ রোঃ মাঃ,আব্দুল হামীদ আল-মাদানী, পৃষ্ঠা-১৫৩)।

*******আমরা যে, যে কথাই বলি না কেন সালাতের উদ্দেশ্য হল রাক’আত বেশী নয়, কম নয়, সহীহ দলীলে যেটা পাওয়া যায় সেটা আমল করা আবশ্যক। এবং সালাতের মধ্যে পালনীয় একাগ্রতার সঙ্গে ক্বিয়াম-কুঊদ, রুকু-সিজদাহ সঠিক আদায় সহ দীর্ঘ সময় ও ধীর স্থীররতার সঙ্গে সালাত আদায় করাই সর্বোত্তম। যে আমল রাসূল (ছাঃ) ও সাহাবা কেরামগণ করেছেন। এটাই সারা বিশ্বের আলেমদেরও মত।
ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এ সম্বন্ধে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বলেন, অবশ্য রাসূল (ছাঃ) ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার মাধ্যমে ১১ বা ১৩ রাক’আতই পড়েছেন। অতঃপর সাধারণ লোকজন দুর্বলতার কারণে ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার পরিবর্তে রাক’আত সংখ্যা ৩৯ পর্যন্ত করেছেন।
(ফতয়ায়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/১১৩ পৃষ্ঠা)।

বুখারীর ব্যাখাতে ইমাম ক্বাসত্বালানী (রঃ) ৩/৪ পৃষ্ঠাতে উল্লেখ করেছেন । তারাবীর সালাতের ব্যাপারে দ্বিতীয় শতাব্দী তথা তাবেঈ যুগ থেকে মতান্তরের সুচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আলেমগণ নয়টি মতে উপনীত হয়েছেন। আল্লামা আঈনী তার বিখ্যাত ‘উমদাতুল ক্বারী’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা যথাক্রমেঃ ৪০,৩৮,৩৬,২৮,২৪,২০,১৬,১৩ এবং ১১ রাক’আত। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৭৯-১৮০/২০১০; শারহু সহীহুল বুখারী)।
####‪#‎মক্কা‬ মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী‘র তারাবীহঃ
মক্কা মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী উক্ত দুই মসজিদ ছাড়া সকল মসজিদেই ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া হয়। উক্ত দুই মসজিদে তারাবীর দুটি জাম‘আত অনুষ্টিত হয়। ১০ রাক‘আত পড়িয়ে একজন ইমাম চলে যান। অন্যজন এসে ১০ রাক‘আত পড়ান। অতঃপড় বিতর পড়েন। যাতে ব্যস্ত লোকেরা শেষের জাম‘আতে শরীক হতে পারে। সেখানে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস অনুযায়ী ১০ রাক‘আত ও শেষে ১ রাক‘আত বিতর সহ মোট ১১ রাক‘আত পড়া হয়। তবে ক্বিরআতের দীর্ঘতার কারণে উক্ত দুই জাম‘আতের ব্যবধান বর্তমান কমে গেছে। এরুপ ঢাকাতেও অনেক মসজিদে রয়েছে। অতএব সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে উক্ত নিয়ম চলে আসছে তা যারা বলছে তা ভ্রান্তিপূর্ণ।
( সুত্রঃ ইমাম সুদাইসের নিজ্বস্ব মক্ত্যবে চাকুরি রত---আর রহমান ও পিস টিভি আলোচক,শায়খ মুযাফর বিন মহসিন )

কারণ সাহাবীগণের যুগে এর অস্তিত্ব ছিলনা। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের সহীহ আছারের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত এই জমা‘আতের ধারা চালু হয়েছে সাহাবীদেরও যুগ শেষ হবার অনেক পরে। যেমনটি ইবনে তায়মিয়াহ(রহঃ) ইংঙ্গিত দিয়েছেন।
{আল্লামা হাফেজ যায়লাঈ,(হানাফী)নাছবুর রায়াহ(রিয়ায:আল-মাকতাবুল ইসলামিয়াহ,১৯৭৩খৃঃ ১৩৯৩হিঃ),২য় খন্ড,পৃঃ১৫৩; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া,২৩/১১৩পৃঃ)}
[https://www.facebook.com/groups/1401502403508487/permalink/1416360382022689/]

++++++++++++++++++++++++++++++++++++



প্যাচাল তরাবী নিয়ে প্যাচাল-২ পর্ব এর পরে ৩++==
>>>>>>>>চুনো পুটি বাদ দিন চলুন >>>প্রখ্যাত বিশেষজ্ষ আলেমগণের মতামত জানি >>>>

আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী (রহঃ) বলেন, আলেমগণের মতামতসমূহ ৯টিতে উপনীত হয়েছে। অতঃপর সর্বশেষ অভিমত সম্পর্কে তিনি বলেন, তবে তারাবীহ সালাত ১১ রাক’আত এটি ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত। এবং তাই তিনি তার নিজের জন্য গ্রহন করেছিলেন। আর ইমাম আবূ বকর, ইবনুল আরাবীও তাই গ্রহন করেছেন। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৮১/২০১০)।
১। আল্লামা ছানআনী হানাফী ২০ রাক’আত এর বর্ণনা সমূহকে ভিত্তিহীন সাব্যস্ত করার পর বলেন, এ সমস্ত আলোচনা থেকে তুমি উপলব্ধি করতে পারলে যে, অধিকাংশ লোকই যারা এই পদ্ধতিতে (২০ রাক’আত) তারাবীহর সালাত আদায়ের কথা বলেছেন, আসলে তা বিদ’আত।
{সুবুলুস সালাম শরহে বুলুগুল মারাম (বৈরুত দারুল কিতাবিল আরবী ১৯৯০/১৪১০ হিঃ) ২য় খন্ড পৃষ্ঠা-২২, হা/৩৪৭ এর আলোচনা, ‘নফল সালাত’ অনুচ্ছেদ}।

২। ইবনুল আরাবী,মালেকী,(মৃঃ ৫৪৬ হিঃ) তার তিরমীযি ভাষ্য গ্রন্থে ‘আরেযাতুল আহওয়াযী’-তে ২০ রাক’আত তারাবী সংক্রান্ত আলোচনার পর বলেন, সহীহ হলো ১১ রাক’আত আদায় করা। যা ছিল রাসূল (ছাঃ) এর রাতের সালাত। আর এর অতিরিক্ত যে রাক’আত সংখ্যা রয়েছে তা মূলতঃ তার কোন ভিত্তি নেই এবং তার কোন সীমাও নেই।--- অতএব তারাবীহর সালাতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর অনুসরণ করাই ওয়াজিব। (আরেযাতুল আহওয়াযী ৪/১৯, সালাতুত তারাবীহ ৮০ পৃষ্ঠা)।
৩। ২০ রাক’আত তারাবীহ এর প্রমানে বর্ণিত হাদীসটি জাল। 
(আলবানী ইরওয়াউল গালীল হা/৪৪৫; ২/১৯১ পৃঃ)।

৪। তারাবীহ সালাত ইমাম সাহেব মুসল্লিদের নিয়ে ১১ বা ১৩ রাক’আত আদায় করবে। (কুরআন সুন্নার আলোকে ইসলামি ফিকাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আত তুয়াইজিরী ২/৬৯ পৃষ্ঠা)।
৫। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, নিশ্চয় প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সাহাবীদের কোন একজনের পক্ষ থেকেও ২০ রাক’আত তারাবীহ সালাত সহীহ বলে প্রমাণিত হয় নি।
(সালাতুত তারাবীহ পৃষ্ঠা-৭৫)।

৬। শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছায়মিন তারাবীহর রাক’আত সংখ্যা ব্যাপারে ৪১,৩৯,২৯,২৩,১৯,১১ ইত্যাদি বক্তব্য রয়েছে। তবে এ সমস্ত বক্তব্যের মধ্যে আমি ১১ বা ১৩ রাক’আতকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যেমন, আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে-----এবং সায়েব বিন ইয়াযীদ থেকে উমর (রাঃ) এর ১১ রাক’আতের নির্দেশ রয়েছে। যা তিনি উবাই ইবনু ক্বাব ও তামীমদারীকে নির্দেশ করেছিলেন। 
(মাযালিসা শাহরি রমাযান ১/৩৩ পৃষ্ঠা)।

৭। ভারতের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন আনোয়ার কাশ্মীরী (রহঃ) হানাফী বলেন, বিশ রাক’আত সম্পর্কে যত হাদীস এসেছে তার সবগুলিই যঈফ।(আরফুশ শাযী, তারাবীহ অধ্যায় পৃঃ-৩০৯)।
৮। হেদায়া-র ভাষ্যকার ইবনুল হুমাম হানাফী বলেন, ২০ রাক’আতের হাদীস যঈফ এবং সহীহ হাদীস সমূহের বিরোধী।
(ফাৎহুল ক্বাদীর ১/২০৫ পৃঃ)।

৯। আল্লামা যাঈলায় হানাফী বলেন, ২০ রাক’আতের হাদীস যঈফ এবং আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত সহীহ হাদীসের বিরোধী।
(নাসবুর রায়াহ ২/১৫৩ পৃঃ)।

১০। মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন,‘আমাদের কোন ইমামের বক্তব্য হ’ল-রাসূল(ছাঃ) লোকদের সাথে ২০ রাকআত সালাত আদায় করছেন। সম্ভবত তনি মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ থেকে এটি গ্রহণ করেছেন যে, তিনি রমাযান মাসে ২০রাক‘আত তারাবীহ পড়েছেন। অনুরুপভাবে বায়হাক্বীও বর্ণনা করেছেন যে,তিনি দশ সালামে ২০ রাক‘আত তারাবীহ আদায় করেছেন। তৃতীয় রাত্রিতে তিনি আর বের হননি। কিন্তু উক্ত দু‘টি বর্ণনাই যঈফ,। (আলী ইবনু সুলতান মুহম্মদ আল-ক্বারী,মিরক্বাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাছাবিহ 
(ঢাকা:রশিদীয়া লাইব্রেরী,তাবি),৩য় খন্ড,পৃঃ১৯৪)

মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ)অনত্রে বলেন, তারাবীহ ৮ রাক’আত । (মিরকাত ১/১৫৫পৃঃ)।
১১। একই বক্তব্য ইমাম তাহাবী (রহঃ)-এর (দুররে মুখতার হালিয়া তাহতবি ১/২৯৫পৃঃ)
১২। দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ক্বাসিম নানুতুবী বলেন, বিতরসহ ১৩ রাক’আত তারাবীহ রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমানিত, যা ২০রাক’আতের চেয়ে জোরদার।(ফুয়ূযে ক্বাসিমিয়্যাহ পৃঃ ১৮)।
১৪। হানাফী ফিকাহ কানযুদ দাক্বয়েক্ব এর টীকাকার আহসান নানুতুবী বলেন,নবী করীম(ছাঃ) ২০ রাক’আত তারাবীহ পড়েননি; বরং ৮ রাক’আত পড়েছেন। (হাশিয়া কানযুদ দাক্বায়েক্ব, পৃঃ৩৬)।
১৫। আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলোভী হানাফী বলেন, রাসূল থেকে ২০ রাক’আত তারাবীহ প্রমানিত নয়, যা বাজারে প্রচলিত আছে। এছাড়া ইবনু আবু শায়বাহ বর্ণিত ২০ রাক’আতের হাদীস যঈফ এবং সহীহ হাদীসের বিরোধী। (ফাৎহু সির্রিল মান্নান লিতা য়ীদি মাযহাবিল পৃঃ ৩২৭)।
১৬। আল্লামা ইবনু আবেদীন বলেন, সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতে তারাবীহ ৮ রাক’আতই সুন্নাত। (হাশিয়া দুররে মুখতার ১ম খন্ড ৬৬০ পৃঃ)।
১৭। ইবনে হাজার আসক্বালানি বলেন, ১১ রাক’আত তারাবীহ বিতর সহ প্রমানিত। বিশ রাক’আত সহীহ ও বিশুদ্ধ হাদীসের পরিপন্থী হওয়ার কারনে বিনা দ্বিধায় তা বর্জনীয়। (ফাৎহুল বারী ৩/৩৩ পৃঃ)।
১৮। হানাফী জগতের বড় মুহাদ্দিস এবং তাবলীগ জাম’আতের বিশিষ্ট মাওলানা যাকারিয়া (রহঃ) বলেন, ২০ রাক’আত তারাবীহ নির্দিষ্টরূপে নবী (ছাঃ) থেকে মারফুভাবে মুহাদ্দিসীনে কেরামের তরিক্বা অনুযায়ী প্রমানিত নেই। এ ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই। (আওযাযুল মাসা-লেক শারহে মুয়াত্বা ইমাম মালেক ১ম খন্ড ৩৯৭ পৃষ্ঠা)।
১৯। মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম, দ্বিতীয় হানীফা ইমাম ইবনে নুজাইম, ইমাম তাহাভী,আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী সকলে নিজ নিজ গ্রন্থ সমূহে লিখেছেন। তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আতের মধ্যে ৮ রাক’আতই হলো রাসূল (ছাঃ) এর সুন্নাত আর অবশিষ্ট ১২ রাক’আত হচ্ছে মুস্তাহাব।
২০। আব্দুল হাই লাখনৌভী জাবির (রাঃ) এর বর্ণিত ৮ রাক’াতের হাদীস উদ্বৃত করার পর দ্বিধাহীন চিত্তে বলেন, মোদ্দাকথা হলো যদি প্রশ্ন করা হয়, রাসূল (ছাঃ) যে রাতগুলোতে তারাবীহ পড়েছিলেন তা কত রাক’আত ছিল? তাহলে জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের আলোকে এর উত্তর হবে, ৮ রাক’আত। আর যদি প্রশ্ন করা হয় তিনি কখনো কি ২০ রাক’আত পড়েছেন? তাহলে উত্তর হবে, হ্যাঁ। এই মর্মে যঈফ হাদীস রয়েছে।
(তুহফাতুল আখবার পৃষ্ঠা-২৮, তারাবীর রাক’আত সংখ্যা পৃষ্ঠা-৫০)।

২১। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী ‘মুয়াত্তা মালেক’ এর ভাষ্য ‘আল মুসাফ্ফা’ গ্রন্থে ঘোষনা করে রাসূল (ছাঃ) এর আমল দ্বারা তারাবীর সালাত বিতর সহ ১১ রাক’আতই প্রমাণিত। (আল মুসাফ্ফা, শরহ মালেক মুয়াত্তা, ফারসী পৃষ্ঠা-১৭৭)।
২২। শাইখ রশীদ আহমাদ গাংগুহি হানাফী (রহঃ) বলেন তারাবীহ ৮ রাক’আত। (রেসালা আল হাককুস সাবীহাপৃঃ২২)
২৩। মাওলানা আঃ রহিম বলেন, সায়েব ইবনে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত হাদীস (আছার) এবং তাবারানীতে হযরত আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের সনদ দুর্বল। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে সহীহ হাদীসের বিপরীত। মুসনাদে আহমাদে এরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তা হইতে তারাবি ৮ রাক’আতই প্রমানিত হয়।(হাদীছ শরীফ ২/২১৮ পৃঃ ৭ম প্রকাশ খাইরুন প্রকাশ-১৯৯৯)।
রাসূল (ছাঃ) রমাযানের রাতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ দুটোই পড়েছেন এই মর্মে সহীহ বা যঈফ কোন সনদে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। (মিরআত ৪/৩১১ পৃঃ)।

>>>>>বেশ কয়েকজন আলেম।যেমনঃ
বঙ্গানুবাদ মিশকাতে মাওলানা নুর মোহাম্মদ আজমী মুওয়াত্বা মালেক বর্ণিত উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় দু’কুল বাঁচিয়ে লিখেছেন। সম্ভবতঃ হযরত উমার (রাঃ) প্রথমে বিতরসহ এগার রাক’আত পড়ারই ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে তাহার আমলেই ২০ রাক’আতই স্থির হয়। কিন্তু কখনও ৮ রাক’আত পড়া হত। (বঙ্গানুবাদ মিশকাত ৩/১৯৯)।
মাওলানা মওদুদী একইভাবে কতগুলো জ্বাল,যঈফ হাদীস ওআছার একত্রিত করে যুক্তিবাদের সাহায্যে সহীহ হাদীস সমূহকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টার কমতি করেন নি।
(রাসায়েল মাসায়েল ৩য় খন্ড পৃঃ ২৮২-২৮৬; বঙ্গঃবুখারী (আধুনিক প্রকাশ) ২/২৭৯-৮২ হা/-১৮৭০ এর টীকা-২৮)।

আরও যেমনটি করেছেন জনৈক অনুবাদক নিজ বঙ্গানুবাদ বুখারীতে হামিদিয়াহ লাইব্রেরী-(ঢাকা) প্রকাশনার গ্রন্থে নিজের ইচ্ছামত আলোচনা রাখতে যেয়ে হাদীসটি রদ করার চেষ্টা ও অপব্যাখ্যা করেছেন। 
(তারাবীহর নামায অধ্যায় ২/১৯৬)।
এবং তিনি ২০ রাক’আতের সাতখানা জাল যঈফ হাদীস দিয়ে বোখারীর সহীহ হাদীসকে রদ করার চেষ্টা করে গলদঘর্ম হয়ে অবশেষে নিজ মত প্রকাশ করেছেন যে, ২০ রাক’আতের সাতটি আছার (হাদীস) আছে। এবং কতিপয় যঈফ হাদীস একত্রিত হলে তা একই মর্মে বর্ণিত থাকলে গ্রহনীয় হবে। আরও লিখেছেন বিরুদ্ধবাদীরা হাদীসগুলোর দোষ বাহির করিয়াছেন উহার সনদে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে এক রাবী অপর রাবী হইতে সরাসরি শোনেন নাই ঠিকই কোন মাধ্যম দিয়ে শুনেছেন কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিত এ সকল হাদীস রাবীদ্বয় পূর্ণ বিশ্বস্ত হইলে সে সকল হাদীস গ্রহনীয় বটে (বিশ্বস্ত হলে তো বর্ণনাগুলো সহীহ হতো)। কিন্তু অনুবাদক জলজ্যান্ত সহীহ হাদীসগুলো অপব্যাখ্যা করে যঈফ ও জ্বাল হাদীস দিয়ে দলীল সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করেছেন। উনি বলেছেন কতিপয় যঈফ হাদীস একত্রিত হলে তা গ্রহনীয় হবে। তথাকথিত রাবী এবং আলেমদের উচ্চ গুণবর্ণনা করেছেন। কিন্তু যারা রাসূল(ছাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণের নামে মিথ্যা হাদীস ও ধারনাপূর্ণ কথাকে সমর্থন করে দ্বীনি আমলের দলীল সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন এবং দ্বীনি ভাইদের বিভ্রান্ত করেছেন। তা কিভাবে গ্রহনযোগ্য হয়? যঈফ বর্ণনা দ্বারা (মূল দ্বীনি বিধান) দলীল সাব্যস্তের শর্তের মধ্যে পড়ে না। এখন বলতে হয় এ ধরনের ৭টি দুর্বল নয় পৃথিবীতে যত কালি আছে তা দিয়ে লেখা যাবে এমন সকল দুর্বল হাদীস একত্রিত করে একটি সহীহ হাদীসের সামনে দাঁড় করালে ইলমে হাদীসের মূলনীতিতে সেগুলোর স্থান নর্দমা।

রাসূল (ছাঃ) রমজানের ২৩তম রাত্রে, ২৫তম রাত্রে ও ২৭তম রাত্রে যথাক্রমে ১/৩,১/২ এবং সেহরীর আগ পর্যন্ত জাম’আতের সঙ্গে তারাবীর সালাত আদায় করেছেন।
(বুখারী; আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/১২৯৮, রমাযান মাসে রাত্রি জাগরণ, সালাত অধ্যায়-৪)।****প্যাচাল চলবে>>>>
[https://www.facebook.com/groups/1401502403508487/permalink/1415841315407929/]

+++++++++++++++++++++++++++++++++++


তারাবীহ নিয়ে কিছু প্যাচালঃ-২
তারাবীহ সম্বন্ধে রাসূল (ছাঃ) -এর সহীহ দলীল সহ তিন প্রকার মত পাওয়া যায়।
১। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর সহীহ সুন্নাহ মতে রমাযানে রাতের (তারাবীহ) সালাত ৮ রাক’আত বিতর সহ ১১ রাক’আত অথবা ১৩ রাক’আত।
২। কথিত আছে ওমর (রাঃ) ২০ রাক’আত তারাবীহ চালু করে গেছেন।যাহা খোলফায়ে রশেদীনের সুন্নাহ। 
৩। কথিত মুজতাহীদগণ ২০ রাক’আত আদায় করতেন এবং মত প্রকাশ করেছেন।

>>>>চলুন পূর্ণাঙ্গ আলোচনায়ঃ
রাতের বিশেষ নফল সালাত তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর সালাত নামে পরিচিত। এটা রমাযান মাস ব্যতিরেকে অন্যান্য মাসের শেষ রাতে রাসূল(ছাঃ) যে তাহাজ্জুত সালাত আদায় করতেন। সেটাই রমাযান মাসে ঈশার পর তারাবির সালাত।
এ সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। নবী (ছাঃ) এর যামানায় এ সালাতকে তারাবীহ বলা হতো না।পরবর্তী কালে এর নাম রাখা হয়েছে তারাবীহ।রাসূল (ছাঃ) এর ইন্তিকালের পরে এটা হতে পারে সাহাবা আমলে অথবা তাবেঈ আমলে। হাদীসে এই সালাতকে তারাবীহ নামে কোথাও পাওয়া যায় না। কিয়ামুল রমাযান, কিয়ামুল লাইল, সালাতুল লাইল (রাতের সালাত) এবং কোরআনের মধ্যে এসেছে তাহাজ্জুদ নামে।

আলেম উলামাদের মধ্যে এই সালাত নিয়ে দুই প্রকার মত পাওয়া যায়।
১. তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত।

২.তারাবী ও তাহাজ্জুদ আলাদা আলাদা সালাত।
অনেকে বলেছেন, তবে প্রথম মতটিই সঠিক। রমাযান মাসে এই সালাতের নামকে ‘খাছ’ করে কিয়ামে রমাযান বা পরবর্তীতে তারাবীহ বলা হয়ে থাকে। অন্যান্য মাসে এই সালাতকে ‘আম’ ভাবে তাহাজ্জুদ, সালাতুল লাইল বা কিয়ামুল লাইল বলা হয়
(তারাবীহর সালাত ও তার আহকাম, আলোচনায় শাইখ মতিউর রহমান মাদানী, অডিও ক্লিপ)।

ফৎওয়ায়ে আলমগীওে ১০০০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে পাঁচ তারাবীহা (২০) রাক’আতের বেশি পড়া মাকরুহ। কিন্তু সেটা দলীল বিহীন। ১০০১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে তারাবীহ নামায হুজুরে পাক(ছাঃ) এর সুন্নাত। তবে কেউ কেউ বলেন ইহা হযরত উমার (রাঃ) এর সুন্নাত।
*****বর্তমানে আমাদের সমাজে মসজিদ গুলোতে আমরা তারাবীহর সালাত আদায় করতে গেলে দু’টি বিষয় দেখতে পায়।
>>>>>প্রথমটি হলঃ তারাবীহ্ শব্দটা বাদ দিয়ে আমরা‘তাড়াতাড়ি’ শব্দটি প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছি। কারন ২০ রাক’আত সালাত আদায় করতে হবে। তারপর ঘুম, তারপর সাহারী খাওয়ার সময় উঠা,কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় যেকোন সালাত আদায়ে হাদীসে বলছে,‘তোমরা সূরা ফাতিহা পড়ার সময় কিছুটা বিরতি দিয়ে পড় কারণ সালাতকে আল্লাহ তার বান্দাদের মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন।
(মুসলিম, মিশকাত-৮২৩, বঙ্গানুবাদ মুসলিম মিশকাত-৭৬৫)।

******আমাদের ইমামদের সেদিকে ভ্রক্ষেপ নেই, আর মুছল্লীরা সালাতের একাগ্রতা বাদ দিয়ে রাক’আত গুনতে থাকে। মনে মনে আরও তাড়াতাড়ি কামনা করে। ইমাম সাহেব দিন গুনতে থাকে বিশেষ বোনাসের সম্মানীর আশায়।অধিকাংশ ইমামই সূরা-ক্বিরাত এমন দ্রুত পড়েন,যা অধিকাংশ মুছল্লী বুঝতে সক্ষম হয় না। অথচ্ আল্লাহ বলেছেন, যখন কুরআন তেলওয়াত করা হয়,তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোন ও চুপ থাক’(আ‘রাফ-২০৪)। মনে রাখতে হবে যে উমরের প্রচলিত সুন্নাহ বলে আমরা বিশ রাক‘আত তারাবীহ আদায় করি,সে হযরত উমরের যামানায় সলফগণ তারাবীর সালাতের কিরাআত্ব লম্বা পড়তেন। পূর্ণ সালাতে প্রায় ৩০০টি আয়াত পাঠ করতেন। এমনকি দীর্ঘ কিয়ামের কারণে অনেকে লাঠির উপর ভর করে দাঁড়াতেন। এবং ফজরের সামান্য পূর্বে তারা সালাত শেষ করে বাসায় ফিরতেন। সেই সময় খাদেমরা সাহারী খাওয়া সম্ভব হবেনা-এই আশঙ্কায় তাড়তাড়ি করতেন।(মালেক,মুওয়াত্বা২৪৯,২৫১,২৫২, মিশকাতুল মাসাবীহ ১/৪০৮আলবানী টীকা দ্রঃ)
দ্রুত সালাত আদায় করতে যেয়ে এ কারনে যদি সালাতের ওয়াজিব নষ্ট হয় অথবা কোন রোকন নষ্ট হয় তাহলে সালাত শুদ্ধ হবে না। আলেমগণ বলেছেন, ইমামের এতটা দ্রুত করা মাকরুহ যে সময়ে মুক্তাদীগণ সালাতের জরুরী কার্য্য সম্পাদনে অক্ষম। (ইবনে উসাইমিন সাবেক সভাপতি সৌদি সর্বোচ্চ ফতওয়া বোর্ড, ছিয়াম, তারাবী ও যাকাত পৃষ্ঠা-২৮ বঙ্গঃ)।
>>>>>দ্বিতীয়তঃ আরেক শ্রেণীর মুছল্লী আছে যারা তারাবীহ আদায় করতে যেয়ে নিজেদেরকে বেশী চতুর মনে করেন। এদের যুক্তি যেহেতু তারাবীহ ৮ রাক’আত সুন্নত তাই তারাও ২০রাক’আত পড়ান এমন ইমামের পিছনে একতেদাহ করে ৮ রাক’আত গুনতে থাকে এবং ৮ রাক’আত শেষ হলে ইমামের পিছন থেকে সরে পড়ে। যারা সরে পড়েন তাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, আবু যর (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) এক বর্ণনায় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ) সমাপ্ত করা পর্যন্ত সালাত আদায় করবে তার জন্য সারারাত সালাতের ছওয়াব লেখা হবে।
(আবূ দাউদ হা/১৯৭৫, তিরমিযী ৮০৬)।
এই হাদীসে বোঝানো হয়েছে তারাবীর সালাতে মুক্তাদীর সওয়াব লেখা হবে তখন,ইমামের পিছনে শেষ পর্যন্ত সালাত আদায় করবে যখন। অতএব ইমামের পিছন থেকে সরে যাওয়া যাবে না। তাহলে তারাবীহ আদায় করার মূল উদ্দেশ্য ও ফযিলত প্রাপ্তি বরবাদ হবে। তাই ৮ রাক’আত পড়তে হলে যে ইমাম ৮ রাক’আত এর কিয়াম করে তার সঙ্গে আদায় করায় উত্তম। তবে ইমাম সহ প্রত্যেক মুমিনের উচিত রাসূল(ছাঃ) -এর প্রকৃত দলীল জেনে আমল করা।

পক্ষান্তরে কোন মুসলিমের জন্য সাগ্রহে সুন্নাত পালন করতে যেয়ে জাম‘আতের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা এবং জাম‘আত ত্যাগ করে চলে যাওয়া উচিত নয়। উচিত হল,তার সাথে যখন ১০বা ১২ রাক‘আত পড়লো,তখন বাকীটাও তার সঙ্গেই শেষ করা। আর এই বেশী সালাত আদায় করাটা (সুন্নাত না হলেও) কোন অবৈধ বা আপত্তি কর কাজ নয়। (নফল সালাত বেশি পড়া বিদ“আত তো নয়;কারণ তা বৈধ হওয়ার দলীল রয়েছে) অতএব বড়জোর তা ভালোর পরিপন্থী অথবা সুন্নার খেলাপ;যাতে ইজতিহাদী মতভেদ হওয়া অস্বাভবিক নয়। তাহলে তা নিয়ে আমাদের আপোসের মাঝে অনৈক্য ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং এমন ইজতিহাদী মাসআলাকে কেন্দ্র করে নিজ মতের বিরোধী পক্ষকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা মোটেও বৈধ নয়। আমাদের উচিত,যথা সম্ভব আমাদের মাঝে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।
( ইবনে উসাইমিন,আশ্শারহুল মুমতে ’৪/৮৩-৮৭পৃঃ)

বহু উলামার ভাষ্য তারাবীর সালাত সাধারণ নফল নয় যে এর রাক’আত সংখ্যা সালাতীর ইচ্ছাধীন থাকবে। এ বিষয়ে হাইতামিন ‘ফাৎওয়া কোবরা’ ১/১৯৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন সাধারণ নফল ও অন্যান্য নফলের মধ্যে পার্থক্য হল সাধারণ নফলের জন্য শরীয়ত প্রনেতা কোন সংখ্যা নির্ধারণ করেন নি এবং তা ইবাদতকারীর ইচ্ছাধীন করে দেওয়া হয়েছে।
আলবানী বলেন, অন্যান্য (অর্থাৎ যে নফল ইবাদত) নফল ইবাদত শরীয়ত প্রনেতা রাক’আত নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা কমবেশি করার স্বাধীনতা কারোর নেই।
অন্যান্য আলেমদের মতএটি‘সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ’এবং যেহেতু তা জাম’আতের সাথে আদায় করা শরীয়ত সিদ্ধ কাজ সেহেতু এটা ফরয সালাতের সাথে সাদৃশ্য রাখে। শাফিয়ীদের যুক্তি “জাম’আতের সাথে আদায় করার চাহিদায় তারাবীহ ফরয সালাতের মতই। তাই সে বিষয়ে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা পরিবর্তন করা যাবে না”।
বুখারীর ব্যাখাতে ইমাম ক্বাসত্বালানী (রঃ) ৩/৪ পৃষ্ঠাতে উল্লেখ করেছেন। তারাবীর সালাতের ব্যাপারে দ্বিতীয় শতাব্দী তথা তাবেঈ যুগ থেকে মতান্তরের সুচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আলেমগণ নয়টি মতে উপনীত হয়েছেন।
আল্লামা আঈনী তার বিখ্যাত ‘উমদাতুল ক্বারী’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা যথাক্রমেঃ ৪০,৩৮,৩৬,২৮,২৪,২০,১৬,১৩ এবং ১১ রাক’আত। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৭৯-১৮০/২০১০; শারহু সহীহুল বুখারী)।
>>>>>>>>রাসূল (ছাঃ) রমাযান মাসে কত রাক’আত রাতের (তারাবীহ) সালাত আদায় করেছেনঃ
১। আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ রমাযান মাসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর সালাত কিরূপ (কত রাক’আত) ছিল? তখন তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ রমাযান এবং রমাযান ব্যতীত অন্য মাসে ১১ রাক’আতের বেশী সালাত আদায় করেননি। তিনি ৪ রাক’আত আদায় করতেন, তুমি তার (সালাতের) সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা শুনে অবাক হয়ে যেওনা। তারপর ৪ রাক’আত আদায় করতেন। তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা শুনে তুমি অবাক হয়ে যেওনা। তারপর তিনি ৩ রাক’আত আদায় করতেন।
(বুখারী হা/১১৪৭, আবু দাউদ হা/১৩৪১, মুসলিম হা/১৭২৩, তিরমিযী হা/৪৩৯, নাসাঈ হা/১৬৯৭, আহমাদ হা/২৪৮০১)।

২। অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, আমাদের নিয়ে রমযানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ৮ রাক’আত আদায় করেছেন এবং বিতর আদায় করেছেন । (সহীহ ইবনে হিব্বান হা/৯২০; খুযায়ামা হা/১০৭০)।
এছাড়া ইবনু আবী শায়বার বর্ণনায় ২/১১৬/১ মুসলিম ও এদের ছাড়া অন্যান্য
দের বর্ণনায় ১৩ রাক’আতের বেশী ছিল না।

৩। আবু ইয়ালা যাবিরের হাদীস আব্দুল্লাহ সুত্রে তিনি বলেন, উবাই ইবনে কা’ব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)এর নিকট এসে বলল হে আল্লাহর রাসূল! রমযানের রাত্রে আমার কাছে একটা ব্যাপার ঘটে গেছে। তিনি বললেন সেটা কি হে উবাই! উবাই বলল, আমার ঘরের নারীরা বলল, আমরা কোরআন পড়ব না। বরং তোমার সাথে সালাত আদায় করবো। উবাই বলল, ফলে আমি তাদের নিয়ে ৮ রাক’আত আদায় করলাম এবং বিতর আদায় করলাম।
(আবূ ইয়ালা ৪/৩৬৯ হা/১৭৬১; আব্দুল্লাহ ইবনে আমাদ আল মুসনাদ ৫/১১৫ পৃঃ; মাজমাউয যাওয়াদী সনদ হাসান)।

৪। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে রাতের সালাত ১৩ রাক’আতের একটি হাদীস লিপিবদ্ধ আছে। (তিরমিযী হা/৪৪২, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)।
ইল্মে হাদীস বিশেষজ্ঞরা বলেন এর মধ্যে দু’রাকাত ফজরের সুন্নাত অথবা ৫ রাক’আত বিতর ছিল।

৫। “নিশ্চয় উবাই বিন কাব এবং তামীমদারী (রাঃ) কে রমাজান মাসে তারাবীহ ১১ রাক’আত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন”।
(মালিক মুয়াত্বা ১/১৩৭; হা/২৪৮; বায়হাক্বী সুনানুল কোবরা ১/৪৯৬; মিশকাত হা/১৩০২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১২২৫)।
হাদীসের সনদে মোহাম্মদ বিন ইউছুফ ইমাম মালিকের উস্তাদ,ইমাম বোখারী, মুসলিম তার থেকে দলীল পেশ করেছেন। হাদীস বিশারদদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সনদে অপর জন সায়েদ বিন ইয়াযীদ (রাঃ)। তিনি এমন একজন সাহাবী যিনি ছোট থাকতে রাসূল এর সাথে হজ্জ করেছেন। হাদীস বিশারদগণের মতে আছারটি সহীহ।

৬। মোহাম্মদ ইবনে ইউছুফ (রাঃ) বলেন, সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন যে,উমর (রাঃ) উবাই ও তামীমদারীর মাধ্যমে লোকদেরএকত্রিত করেন। অতঃপর তারা । উভয়েই ১১ রাক’আত সালাত আদায় করেন। সনদ 
সহীহ।(আল মুসান্নাফ ২/২৮৪ হা/৭৭২৮,আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আবী শায়বা আল কুফী)।

৭। মোহাম্মদ ইবনে ইউছুফ (রাঃ) বলেন, সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি,তিনি বলেছেন,আমরা ওমর (রাঃ) এর যামানায় ১১ রাক’আত সালাত আদায় করতাম। সনদ সহীর পর্যায়ভুক্ত।
(আস সুনান আওনুল মা’বুদ ৪/১৭৫ হা/১৩৭২ আলোচনা দ্রষ্টব্য)।

৮। সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন,আমরা উমর (রাঃ) এর যামানায় রমাযান মাসে ১৩ রাক’আত সালাত আদায় করতাম।
(মোহাম্মদ ইবনে নাসর, কিয়ামুল লাইল, ফাতহুল বারী ৪/৩১৯ পৃষ্ঠা)।
উক্ত বর্ণনাতে ফজরের ২ রাক’আত সুন্নাতসহ বর্ণিত হয়েছে। যা আয়েশ(রাঃ)
এর হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যশীল। সেখানে ফজরের ২ রাক’আত সুন্নাত সহ রেওয়াত এসেছে। (সহীহ বুখারী হা/১১৪০, মুসলিম হা/১৮০৩-০৪)। এটিই সর্বাধিক বলিষ্ট বর্ণনা।
রাসূলুল্লাহ এর রাতের সালাত সম্বন্ধে আয়েশা (রাঃ) ছিলেন অন্যান্যদের চেয়ে অধিক অবগত। এটাই বাস্তবতা।

তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আতের বর্ণনা ঃ
১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীস ২০ রাক’আতের পক্ষে এই একটিই হাদীস আছে যা পেশ করা হয়।#######(চলবে প্যাচাল)[https://www.facebook.com/groups/1401502403508487/permalink/1415271538798240/]

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

No comments:

Post a Comment