তারাবীহ পড়ার নিয়ম ও পদ্ধতিঃ
২, ২ করে >> প্রতি ৪ রাক’আতে বিশ্রাম নিতে হয় এবং অন্যান্য সালাতের সহীহ রেওয়াতে আসা দোয়া সমুহ পড়া যায়।
বাড়ীতে তারাবী সালাত আদায় করলে ক্বিরআত স্বরবে পড়তে হবে। তবে উচ্চৈঃস্বরে নয়। (আবূ দাউদ, তিরমিযী মিশকাত হা/১২০৪, সনদ সহীহ)।
#####তারাবীহর জন্য কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই তবে রাসূল (ছাঃ) শেষ দশ রাত্রের বেজোড় রাত্রে বিশেষ একটি দোয়া আয়েশা (রাঃ) শিখিয়ে দেন।
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউভুন তোহেব্বুল’আফওয়া কা’ফু ‘আন্নি’।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস অতএব আমাকে ক্ষমা কর। (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১ ও অন্যান্য)।
এ দোয়াটি পড়া যায়।
অতঃপর তিন রাক’আত একটানা বিতর পড়তে হয় এবং শেষে বৈঠক করতে হয়। (বুখারী হা/১১৪৭, তিরমিযী হা/৪৩৯ ও অন্যান্য)।
#####আমাদের সমাজে চার রাক’আত পর দোয়া ‘সুবাহানযিল মুলকী’ পড়া হয় এর কোন দলীল নেই। (তবে ফতওয়ায়ে দারুল উলুম ৪/২৭১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে এই দোয়া পড়া যায়েজ তবে তাই পড়া জরুরী নয় বরং এই দোয়া কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়)।
******এ দোয়াটি একটি জাল হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, বলা হয়েছে আল্লাহর কিছু ফেরেশতা একটি নূরের সমুদ্রে এই দোয়াটি পাঠ করেন--- যে ব্যক্তি কোন দিবসে, মাসে বা বৎসরে এই দোয়াটি পাঠ করবে সে বহু পুরষ্কার লাভ করবে। (ইবনু ইরাক তানযিহু ২/৩২৬ পৃষ্ঠা)।
সহীহ সুত্রে হাদীসে যত দোয়া পাওয়া যায় তার মধ্যে এর কোন অস্তিত্ব নেই।
যা হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়। আর জাল হাদীস আমল অর্থাৎ রাসূল(ছাঃ)এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
এবং এর পর সম্মিলিত হাত তুলে মোনাজাত করা রাছুল(ছাঃ) এবং সাহাবাগণ করেন নি। অতএব এগুলো থেকে বিরত থাকাই উত্তম এবং না করাই সুন্নাত।
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
তারাবীহ সম্বন্ধে রাসূল (ছাঃ) -এর সহীহ দলীল সহ তিন প্রকার মত পাওয়া যায়।>>>তারাবী প্যাচাল পর্ব-৬ >>>পড়তে থাকুন >>>ওমর (রাঃ)টা ৫ম পর্বে <<এছাড়া>> সাহাবা কেরামগণের হাদীস (আছার) এর বিশ্লেষণ ও চার ইমামের তারাবী সম্বন্ধে অবস্থান কি?পড়তে থাকুন>> #####মক্কা মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী‘র তারাবীহঃ
মক্কা মদীনার মসজিদে হারাম ও নববী উক্ত দুই মসজিদ ছাড়া সকল মসজিদেই ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া হয়। উক্ত দুই মসজিদে তারাবীর দুটি জাম‘আত অনুষ্টিত হয়। ১০ রাক‘আত পড়িয়ে একজন ইমাম চলে যান। অন্যজন এসে ১০ রাক‘আত পড়ান। অতঃপড় বিতর পড়েন। যাতে ব্যস্ত লোকেরা শেষের জাম‘আতে শরীক হতে পারে। সেখানে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস অনুযায়ী ১০ রাক‘আত ও শেষে ১ রাক‘আত বিতর সহ মোট ১১ রাক‘আত পড়া হয়। তবে ক্বিরআতের দীর্ঘতার কারণে উক্ত দুই জাম‘আতের ব্যবধান বর্তমান কমে গেছে। এরুপ ঢাকাতেও অনেক মসজিদে রয়েছে। অতএব সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে উক্ত নিয়ম চলে আসছে তা ভ্রান্তিপূর্ণ।(পিস টিভি আলোচক,শায়খ মুযাফর বিন মহসিন )
কারণ সাহাবীগণের যুগে এর অস্তিত্ব ছিলনা। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের সহীহ আছারের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত এই জমা‘আতের ধারা চালু হয়েছে সাহাবীদেরও যুগ শেষ হবার অনেক পরে। যেমনটি ইবনে তায়মিয়াহ(রহঃ) ইংঙ্গিত দিয়েছেন।
{আল্লামা হাফেজ যায়লাঈ,(হানাফী)নাছবুর রায়াহ(রিয়ায:আল-মাকতাবুল ইসলামিয়াহ,১৯৭৩খৃঃ ১৩৯৩হিঃ),২য় খন্ড,পৃঃ১৫৩; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া,২৩/১১৩পৃঃ)}
#১। ইবনে মাসউদ (রাঃ) সুত্রে বর্নিত হাদীস (আছার) দিয়ে যা যাইদ বিন ওয়াহ্হাব হতে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রমাযান মাসে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন অতঃপর ফিরে গেলেন। আর তখনও রাত্রি ছিল। আ’মাশ বলেনঃ তিনি ২০ রাক’আত আদায় করলেন এবং ৩ রাক’আত বিতর পড়লেন। (ইবনু নসর ‘কিয়ামুল লাইল’ পৃষ্ঠা নং-৯১)।
বর্ণনাটি জ্বাল। শেষাংশটুকু জাল করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আ’মাশ কর্তৃক বর্ণিত শেষাংশ ভিত্তিহীন, পূর্বের অংশটুকু ত্বাবারানীতে এসেছে। কিন্তু তা যঈফ ও মুনকার। যেমন,আল্লামা মুবারক পুরী “তুহফাতুলআওয়াযী”গ্রন্থে (২/৭৫) তে বলেছেন সনদটি বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতে,কেননা আ’মাশ ইবনু মাসউদের যুগ পাননি (অর্থাৎ মাসউদের যামানায় তার অস্তিত্ব ছিল না)। আর তাবারানী উক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করতে যেয়ে আ’মাশের কথা উল্লেখই করেন নি। এছাড়াও আ’মাশের সনদে মুখস্ত শক্তি দুর্বল একজন রাবী থাকার আশংকা করেছেন। (বিস্তারীত আল মাজুমা ৩/১৭২)।
#২। উবাই বিন কা’ব সুত্রে দু’টি আছার পাওয়া যায়। যা বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবা ‘মুসান্নাফ’ (২/৯০/১) গ্রন্থে আব্দুল আযিয বিন রাফি বলেন, ‘উবাই বিন কা’ব রমাযান মাসে মদীনায় লোকদের সাথে ২০ রাক’আত (তারাবীহ) সালাত আদায় করেছেন এবং ৩ রাক’আত বিতর আদায় করেছেন’।
এই সনদে আব্দুল আযীয ও উবাই এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা (মুনাকাতে) রয়েছে কারন উবায়ের মৃত্যু ব্যবধান ১০০ বছর বা তার চেয়ে বেশী সময়।
(তাহযীবুত তাহযীব বা অন্যান্য গ্রন্থ)।
#৩। ‘উবাই ইবনে কা’ব তিনি তাদের সঙ্গে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করলেন’। এর সনদে আবু জাফর রাযী নামে একজন রাবী রয়েছে যার প্রকৃত নাম হলো ঈসা বিন আবি ঈসা বিন মাহান, হাদীস বিশ্লেষকগণ সর্বসম্মতী ভাবে তাকে দুর্বল, যঈফ, সন্দেহযুক্ত ও মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী বলেছেন। ইমাম যাহাবী ‘যুআফ’ গ্রন্থে তাকে অধিক সন্দেহ প্রবন বলেছেন। , আহমাদ ‘ফাল্লাস’ বলেছেন ‘স্মৃতি শক্তির দুর্বলতা’। হাফিয (রহঃ) ‘তাকবীর’ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। ইবনুল জাওযী ‘যাদুল মাওয়াদ’ ১/৯৯ পৃষ্ঠায় মুনকার বলেছেন।
আলী সুত্রে দু’টি হাদীস (আছার) ঃ
#৪। ‘আবুল হাসানাহ বলেন, “আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন’। (মুসান্নাফ আবু শাইবা ২য় খন্ড, বায়হাকী ২/৪৯৭)।
বায়হাকী বর্ণনা করে বলেছেন এ সনদে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম যাহাবি (রহঃ) বলেছেন সে কে তা জানা যায়নি। হাফিয (রহঃ) বলেছেন, সে অজ্ঞাত। বিস্তারীত দেখুন হাফিয (রহঃ) এর তরজমা ‘তাহাযীব’ গ্রন্থে।
#৫। “আলী (রাঃ) রমাযানে ক্বারী আহ্বান করলেন এবং তাদের মধ্যেকার এক ব্যক্তিকে ২০ রাক’আত সালাত আদায় করানোর নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) তাদের সঙ্গে বিতর পড়েছিলেন”। (বায়হাকী ২/৪৯২)।
এর সনদে‘আত্বা বিন সায়েব’ একজন, সে ভুলত্রুটিতে সংমিশ্রন করতো। আরও একজন ‘হাম্মান বিন শুআইব’ ইমাম বুখারী প্রথমে ইশারা করেছেন, তার ব্যপারে প্রশ্ন রয়েছে দ্বিতীবার বলেছেন ‘সে হাদীসে অস্বীকৃত’ যার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করা বৈধ নয়।(ইবনুল কাছিরের “মুখতাসার উলুমুল হাদীস” ও তুহফাতুল আওয়াযী ২/৭৫ পৃঃ)।
#৬। আত্বা বলেন, আমি লোকদের বিতর সহ ২৩ রাক’আত সালাত আদায় করা অবস্থায় পেয়েছি। (ইবনু আবী শায়বা ২/২৮৫)।
বর্ণনার সনদে মুনকার রাবী আত্বা ইবনু সায়েব এর সম্বন্ধে ইমাম যাহাবী বলেন এর বর্ণনাগুলো এলোমেলো কারণ তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল।(মীযানুল ইতিদাল ৩/৭০ পৃষ্ঠা)।
ইবনু মুঈন বলেন তার বর্ণনা গুলো মিশ্রীত। তার কোন সহীহ হাদীস নেই। তাকে পরিত্যাগ কর। তার বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহন করা হয় না।(মিযানুল ইতিদাল ৩/৭১ পৃষ্ঠা)।
আহমাদ ইবনে আবী খায়ছামা বলেন, তার সমস্ত হাদীসই যঈফ। (ঐ)।
#****->এছাড়াও বিভিন্ন সাহাবা ও তবেঈ যে সব আছার এসেছে সবই যঈফ না হয় জাল।
####আল-হিদায়া ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ১২৬ ইঃ ফাঃ- এ পাওয়া যায় মুস্তাহাব এই যে, মানুষ রমাযান মাসে ‘ঈশা’র পরে একত্রে হবে এবং ইমাম সাহেব পাঁচ তারবীহা পড়বেন। প্রতিটি তারবীহা (৪ রাক’আত) দুই সালামে হবে, এবং প্রতিটি তারবীহার পরে এক তারবীহা পরিমাণ বসবে। (তার-বিহ শব্দের অর্থ প্রশান্তির বৈঠক) এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। এখানে ইমাম কূদুরী বলেছেন এটা ‘মুস্তাহাব’। হাসান ইবনে যিয়াদ ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু হানীফা বলেছেন তা ‘সুন্নাত’।
কেননা উমর (রাঃ),ওসমান (রাঃ)ও আলী (রাঃ) এই তিন খুলাফায়ে রাশেদীন তা নিয়মিত পাঁচ তারবীহা (প্রতি তারবীহা=৪ রাক’আত) আদায় করেছেন। আর নবী তা নিয়মিত করেন নি কারণ ফরয হয়ে যাবার ভয় ছিল। (ইমাম আবূ হানীফার নামে ২০ রাক’আত তারাবীহর যে কথা প্রচলিত আছে তা কোন সুত্র থেকে এসছে তার প্রমাণ মেলেনি)।
ইমাম আবূ হানীফাঃ ইমাম আবূ হানীফার পক্ষ থেকে তার অনুসারীরা বলে থাকেন যে, তারাবীহ সালাত ২০ রাক’আত। ইমাম আবূ ইউছুফ (রহঃ) তাকে তারাবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উমর (রাঃ) এর যুগের দিকে ইঙ্গীত করেন এবং ২০ রাক’আতের কথা বলেন।(আল আরফুশ শাযী, শরহে তিরমীযি সহ ১/১০১ ও ১৬৬ পৃষ্ঠা)।
কিন্তু উক্ত বক্তব্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায় না। যেমন, আল্লামা আনোয়ার কাশ্মিরী হানাফী নিজেই প্রতিবাদ করে বলেছেন, যদিও উক্ত কথা নির্ভরযোগ্য আমাদের কাছে পৌছায়নি। (ঐ)
######ইমাম মালিকঃ ইমাম মালেকের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ মুহাদ্দিস আবুল মানসুর আল যুরী ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকদেরকে যার উপর একত্রিত করেছিলেন, আমার নিকট তাই সর্বাধিক পছন্দনীয়। আর তিনি যা চালু করেছিলেন তা ছিল ১১ রাক’আত। আর এটাই ছিল রাসূল (ছাঃ) এর সালাত। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হলো, বিতর সহ ১১ রাক’আত? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপর মুহাদ্দিস আল যুরী বিস্ময়ের সাথে বলেন, আমি অবগত নয় যে, কোথা থেকে তার নামে এর অধিক রাক’আত সংখ্যা আবিষ্কৃত হলো! (সালাতুত তারাবীহ পৃষ্ঠা-৭৯)। অতঃপর সর্বশেষ অভিমত সম্পর্কে তিনি বলেন, তারাবীহ সালাত ১১ রাক’আত এটা ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত এবং তাই তিনি তার নিজের জন্য গ্রহন করেছেন। আর ইমাম আবূ বকর ইবনুল আরাবীও তাই গ্রহন করেছেন। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১৮০/২০১০)।
অবশ্য ইমাম মালিক (রহঃ) থেকেও ৩৬ রাক’আতের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম মালিক নিজে ১১ রাক’আত তারাবীহ আদায় করতেন যা রাসূল(ছাঃ) হতে প্রমাণিত।(হাসিয়া মুওয়াত্বা পৃষ্ঠা-৭১; তুহফাতুল আহওয়াযী, তিরমিযী হাদীছ ৮০৩ এর ব্যাখ্যা ৩/৫২৬-৩২)।
######ইমাম শাফেঈ এ সম্বন্ধে ইমাম শাফেঈর কোন স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৭; ফাতহুল বারী ৪/৩১৯ পৃঃ)।
ইমাম তিরমীযি উমর ও আলী (রাঃ) এর নামে কথিত ২০ রাক’আতের ব্যাপারে ইমাম শাফেঈর যে সমর্থন তুলে ধরেছেন তা দুর্বল অভিযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ তিনি উক্ত বক্তব্য رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উদ্বৃত করেছেন। (তিরমীযি হা/৮০৬ এর আলোচনা ১/৬৬ পৃষ্ঠা)।
ইমাম শাফেঈর উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে ইমাম বায়হাক্বী বলেছেন, এটা আলেমদের ঐতিহাসিক কল্পনা মাত্র। (মারেফাতুস সুনান ৪/২০৫, হা/১৪৪১)।
মুহাদ্দিসগণের নীতি হলো, কোন অপ্রমানিত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উদ্বৃত করলে তারা رُوِىَ (কথিত) শব্দ দ্বারা উল্লেখ করেন।(মুসলিম মুকাদ্দামা শরহে নববী সহ ১/৮ পৃষ্ঠা, অনুচ্ছেদ ১ এর ভাষ্য)।
অতএব বুঝা যায় ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ২০ রাক’আত বর্ণনাকে নিজেই দুর্বল ও কথিত বলতে চেয়েছেন।
#####ইমাম আহমাদঃ মূগনী ১ম খন্ডে ৭৯৮-৯৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ইমাম আহমাদের মতে তারাবীহ ২০ রাক’আত। কিন্তু ফতোয়ায়ে মাজমু তে ২৩/১১২-১৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইমাম আহমাদ এ সম্বন্ধে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার বিরোধী ছিলেন।
######ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহঃ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) তারাবীর রাক’আত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন আলেমদের মতামত পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি ২০, ৩৯ এবং ১৩ রাক’আতের মোট ৩টি মত উল্লেখ করেছেন। মূলত তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের ন্যায় অনির্দিষ্ট রাক’আত সংখ্যার পক্ষে যেমন তিনি মতামত উল্লেখ করার পর বলেছেন, সোজা কথা এই যে, উক্ত প্রত্যেকটি মতই ভালো। যেমন, ইমাম আহমাদ উক্ত বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বিয়ামে রমাযান সম্পর্কে কোন রাক’আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি।(ফতয়ায়ে মাজমু ২৩ খন্ড ১১২-১৩ পৃষ্ঠা)।
অবশেষে ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এ সম্বন্ধে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বলেন, অবশ্য রাসূল (ছাঃ) ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার মাধ্যমে ১১ বা ১৩ রাক’আতই পড়েছেন। অতঃপর সাধারণ লোকজন দুর্বলতার কারণে ক্বিরা’আত দীর্ঘ করার পরিবর্তে রাক’আত সংখ্যা ৩৯ পর্যন্ত করেছেন।(ফতয়ায়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/১১৩ পৃষ্ঠা)।চলবে প্যাচাল>>
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++


No comments:
Post a Comment