Sunday, 28 June 2015

তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত


++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++




তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাতঃ
=========================
রাসূল ﷺ রমাযান ও রমাযানের বাইরে বিতর সহ ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না, যার মধ্যে ৩ রাকাত ছিল বিতরের সালাত। কিন্তু আমাদের হানাফী ভাইগনের দাবী এটা রাসূল ﷺ এর তারাবীহর সালাত নয়, এটা তাহাজ্জুদের সালাত, রাসূল ﷺ এর তারাবীহ ছিল ২০ রাকআত। এটাকে তারাবীহর দলীল যাতে না দিতে পারে সেজন্য তারা মরিয়া হয়ে প্রমাণ করতে চায় তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত নয়, ভিন্ন ভিন্ন সালাত। এটা প্রমানে তারা যে সমস্ত যুক্তি তুলে ধরে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব, ইনশা আল্লাহ।

■ দাবী নং ১: তাহাজ্জুদ সালাত ইসলামের শুরুতে নির্ধারিত হয়েছিল আর তারাবীহ সালাত রাসূল ﷺ শেষ রামাযান মাসে নির্ধারিত হয়।
►জবাবঃ এই দাবীর কোন দলীল নেই। এমন কোন সহীহ হাদীস নাই যেখানে বলা হয়েছে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত। এমন কোন সহীহ হাদীস কেউ দেখাতে সমর্থ হবে না যে রাসূল ﷺ প্রথমে তারাবীহ সালাত আদায় করেছেন পরে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করেছেন। আমরা বুখারীর ২০১৩ নং হাদীসে দেখতে পাই আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেছেন যে, রামাযান ও রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এগারো রাকআতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। এর প্রথম ৮ রাকাআত ছিল কিয়ামুল লাইল এবং পরের ৩ রাকআত ছিল বিতরের সালাত। আয়েশা (রা:) এর এই হাদীস একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত। আসলে কিয়ামুল লাইল, কিয়ামুল রামাযান, তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ একই সালাতের ভিন্ন ভিন্ন নাম। নিচের আলোচনায় তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে আশাকরি -

ক) ‘তারাবীহ’ শব্দটি রাসূল ﷺ ও সাহাবীদের যুগে কখনও রামাযানের রাতের সালাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় নি।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এমন কোন সহীহ দলীল নেই যে রাসূল ﷺ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ সালাত আলাদা আলাদা পড়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তারাবীহ শব্দটি রাসূল ﷺ এর রাতের সালাত বিষয়ক কোন হাদীসের মতনে (text) কখনও ব্যবহার করা হয় নাই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেটা সাধারণ পাবলিকদের জানানো হয় না। সাধারণত: রামাযানের রাতের এই সালাতকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের সালাত এবং অন্যান্য মাসের ক্ষেত্রে তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইল শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে।

খ) একই হাদীস তারাবীহ এবং কিয়ামুল লাইল অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুহাদ্দীসগণ এবং ইমামগণ একই হাদীস তারাবীহ এবং কিয়াম এর অনুচ্ছেদের নিচে উল্লেখ করেছেন। এ দু’টি সালাত এক বলেই মুহাদ্দীসগণ এটা করেছেন। আর মুহাদ্দীসগণ হাদীসের মর্মের ব্যাপারে বেশি অবগত। উদারহণস্বরূপ - নিম্নের হাদীসটি একই সাথে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ (কিয়াম) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হয়েছে।
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। [বুখারী হা/১১৪৭, ২০১৩]

ইমাম বুখারী (রহ.) এ হাদীসকে তাহাজ্জুদ (কিয়াম) এর অনুচ্ছেদে এনেছেন, হাদীস নং ১১৪৭। লিংক:http://hadithbd.com/show.php?BookID=12&HadithNo=1147
এটিকে আবার তারাবীহ্‌র অধ্যায়েও এনেছেন, হাদীস নং ২০১৩।

এই বিতরসহ ১১ রাকাত (৮+৩) এই হাদীস ইমাম মুহাম্মদ বিন আল হাসান আশ-শায়বানী (রহ.) এর মুয়াত্তাতেও "قيام شهر رمضان و ماء فيه من الفضل" (অর্থাৎ "রমজান মাসের কিয়াম এবং এতে যে সকল ফযিলত রয়েছে") শিরোনামের নিচে এনেছেন।
মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী রহ. এর হাসিয়াতে বলেছেন যে " ”قوله قيام شهر رمضان ويسمى التراويح যার অর্থ - রামাযানের কিয়াম এবং তারাবীহ একই সালাত।
ইমাম বায়হাকী রহ. তাঁর ‘আল সুনান আল-কুবরা’- তে "”باب ما روي في عدد ركعات القيام في شهر رمضان (অর্থাৎ "যা বর্ণিত হয়েছে রমজান মাসের কিয়ামের রাকাত সম্পরকে "-এর অনুচ্ছেদ) - এর নিচে হাদীসটি এনেছেন।
ইমাম আবূ আল-আব্বাস কুরতুবী রহ. বলেন,
ثم اختلف فى المختار من عدد القيام فعند مالك :أن المختار من ذلك ست و ثلاثون......وقال كثير من أهل العلم :إحدىٰ عشرة ركعة أخذاً بحديث عائشة
তারাবীহ সালাতের রাকআত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে, ইমাম মালিক (রহ.) ৩৬ রাকআত বেছে নিয়েছেন.....এবং বিদ্বানদানদের এক বৃহৎ দল বলেছেন তা ১১ রাকাত যেমনটি আয়েশা (রাদি আল্লাহু আনহা) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
[المفہم لما اشکل من تلخیص کتاب مسلم 2/390،389]

গ) মুতাকাদ্দিমীন এর মধ্য থেকে কোন একজন মুহাদ্দীস ও ফকীহও দাবী করেন নি যে হযরত আয়েশা (রা:) এর বর্ণিত হাদীস তারাবীহ সালাতের নয়, এবং কোন মুহাদ্দীসই এই হাদীসকে তাহাজ্জুদের সালাতের হাদীস বলে তারাবীহ সালাতের বিপক্ষে পেশ করেন নি।
ঘ) বিদ্বানগণ ৮ রাকাত (বিতরসহ ১১ রাকআত) এর হাদীসকে ২০ রাকআতের দুর্বল হাদীসের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছেন।
বহু সংখ্যক মুহাদ্দীস (হানাফীগণ সহ) ২০ রাকআত সম্বলিত হাদীসের বিপরীতে ৮ রাকআত সম্বলিত আয়েশা (রা:) এর হাদীস পেশ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন -
✔ ১) আল্লামা যাইলা’ঈ হানাফী রহ. (নাসাবুর রায়াহ, ২/১৫৩)
✔ ২) হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (আদ-দেরায়াহ, ১/২০৩)
✔ ৩) ইবনে হুমাম হানাফী রহ. (ফাতহুল কাদীর, শহরে হেদায়াহ)
✔ ৪) আল্লামা আইনী হানাফী রহ. (উমদাতুল কারী ১১/১২৮)
✔ ৫) আল্লামা সূয়ূতী রহ. (আল-হাওয়ি লিল ফাতাওয়া ১/৩৪৮)
এবং আরোও অনেকে..।

→আল্লামা যাইলা’ঈ হানাফী রহ. বলেন,
-ইবরাহীম ইবনু উসমানের কারণে হাদীসটি ত্রুটিপূর্ণ। সে সর্বসম্মতিক্রমে যঈফ। ইবনু আদী তাঁর ‘কামেল’ গ্রন্থে এই হাদীসকে দুর্বল বলেছেন। এতদসত্ত্বেয় আবু সালামাহ জিজ্ঞাসিত আয়েশরা (রা:) এর বর্ণিত সহীহ হাদীসের বিরোধী...(সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ৮+৩ রাকাতের হাদীস)। [নাসাবুর রায়াহ, ২য় খন্ড, ১৫৩ পৃষ্ঠা]

→ আল্লামা ইবনুল হুমাম হানাফী রহ. বলেন,
-মুহাদ্দীসগনের ঐকমত্যে যঈফ স্বীকৃত রাবী ইবরাহীম ইবনে উসমান থাকার কারণে হাদীসটি যঈফ। যিনি ইমাম আবুবকর ইবনে আবী শায়বার দাদা। এছাড়াও এটি সহীহ হাদীসের (আয়েশা রা: বর্ণিত ১১ রাকআত) বিরোধী। [ফাতহুল কাদীর, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃ:]

→ইবনে হাজার আসকালী রহ. বলেন,
-রাসূলুল্লাহ ﷺ রামাযান মাসে ২০ রাকআত তারাবীহ ও বিতর পড়তেন মর্মে ইবনু আব্বাস থেকে ইবনু আবু শায়বাহ যে বর্ণনা করেছেন তার সনদ যঈফ। তাছাড়াও সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আয়েশা (রা:) এর হাদীসের বিপরীত বর্ণনা করেছেন। ফাতওহুল বারী, ৪/৩১৯, ২০১৩ নং হাদীসের আলোচনা দ্র:]

→এক রাত্রে ২ বিতর সালাত নাই:
যদি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত হতো, তাহলে উসূল অনুসারে, রাসূল (সা:) ২৩ রাকাআত (২০ তারাবীহ+৩ বিতর) পরেছেন এবং একই সাথে তিনি বিতর সহ ১১ রাকআত তাহাজ্জুদ সালাত পড়েছেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আয়েশা (রা:) এর বর্ণিত হাদীসে। তাহলে গ্রহণ করতে হয় রাসূল (সা:) একরাত্রে ২ বার বিতর পরেছেন। অথচ রাসূল ﷺ বলেছেন,
-এক রাত্রে দুই বিতর নেই। [তিরমিযি ৪৭০, আবূ দাউদ ১৪৩৯, নাসাঈ ১৬৭৮]।
আর রাসূল ﷺ এর কথা ও কাজে বিপরীতধর্মী হবেন এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা সালাত এই ধারণা বাতিল।

চ) হানাফী বিদ্বানদের অভিমত:
======================
✔১) ইবনে হুমাম হানাফী রহ. বলেন, 
-এবং সবকিছুর সিদ্ধান্ত হল যে কিয়ামুল রামাযান (তারাবীহ) এর সুন্নাহ হল বিতরসহ ১১ রাকআত জামাআতের সাথে। [ফাতহুল কাদীর, ১/৪০৭] এরপর তিনি বলেন ২০ রাকআত হলো খুলাফায়ে রাশেদীন এর সুন্নাহ।
✔ ২) মুল্লা আলী কারী রহ. একই কথা বলেছেন যে কিয়ামুল রামাযানের সুন্নাহ হল ১১ রাকাআত (মিরকাত ৩/৩৮২)
✔ ৩) আহমদ তাহতাবী বলেন, “কারণ নবী (সা:) ২০ রাকআত পড়েন নাই, বরং (পড়েছেন) ৮ (রাকআত)। [হাসিয়াতুল তাহতাভী আলা দুররুল মুখতার ১ম খন্ড, ২৯৫ পৃ:]
✔ ৪) মুহাম্মাদ আহসান নানুতবী একই কথাই উল্লেখ করেছেন [হাশিয়া কানযুল দাকাইক পৃ: ৩২]
✔ ৫) ইবনে নাযুইম মিসরি রহ. বলেন যে ৮ রাকআত তারাবীহ মাসনুন। [আল বাহরুর রাক্বাইক ২/৬৭]
✔ ৬) খলিল আহমেদ সাহরানপুরি দেওবন্দী বলেন যে তারাবীহর সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ হল ৮ রাকআত যাতে সবাই সম্মত হয়েছেন। [বারাহীনে কাতিয়া, ১০৯, ১৯৫]
✔ ৭) আবদুস শাকুর লাখনবী স্বীকার করেছেন যে ৮ রাকআত তারাবীহ মাসনূন। [ইলমুল ফিকাহ, পৃ: ১৯৮]
✔ ৮) আব্দুল হাই লাখনবী রহ. বলেন, “রাসূল (সা:) দুইভাবে তারাবীহ পড়েছেন - ২০ রাকআত জামাআত ছাড়া, তবে এর সনদ দূর্বল, ৮ রাকআত ৩ রাকআত বিতরসহ জামাআত সহকারে” [মাজমুয়া ফাতাওয়া আব্দুল হাই ১ম খন্ড পৃ: ৩৩১, ৩৩২]
✔ ৯) মাওলানা মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ কাশমিরী রহ. বলেন “এটা স্বীকার করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই যে রাসূল (সা:) এর তারাবীহ সালাত ছিল ৮ রাকআত, এবং কোন বর্ণনা দ্বারা এটা প্রতিষ্ঠিত নয় যে তিনি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদাভাবে পড়েছেন।” [উরফ আশ-শাযী ১/১৬৬]তিনি আরো বলেছেন, “আমার নিকট এ দু’টি সালাত একই সালাত। সাধারণ লোকেরা এটার অর্থ না বুঝে দুটো আলাদা সালাত বানিয়ে দিয়েছে।” [ফয়জুল বারী, ২/৪২০]
✔ ১০) মোহাম্মাদ ইউসুফ বিন্নরী রহ. বলেন, “এভাবে, এটা গ্রহণকরা প্রয়োজনীয় যে নবী (সা:) আটা রাকআত তারাবীহও পড়েছেন।” [মা’রিফুল সুনান, ৫/৫৪৩]
✔ ১১) মুহাম্মদ কাসিম নানৌতবী, দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, লিখেছেন, “বিদ্বান লোকজন এটা লিখেছেন যে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ প্রকৃতপক্ষে একই সালাত।” [ফুইয়োয কাসেমিয়াহ পৃ: ১৩]

এমন উদাহরণ আরো দেওয়া যাবে। এখানে এটা উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য না যে উনাদের মত হল তারাবীহ ৮ রাকাআত পড়া। বরং উনারা স্বীকার করেছেন রাসূল সা: এর তারাবীহ ছিল ৮ রাকআত, যা আয়েশা রা: এর হাদীস দ্বারা জানা যায়। সুতরাং তাদের মত অনুসারে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত।
ছ) চার ইমাম থেকে নিচের অভিমতগুলোও প্রমাণিত:
=====================================
■ইমাম আবূ হানীফা রহ. অভিমতঃ
ইমাম মুহাম্মদ বলেন,
-আবূ হানীফা আমাদের জানিয়েছেন, যিনি বলেন, আমাদের নিকট আবূ জাফর বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন, নবী ﷺ ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে ১৩ রাকআত পড়তেন, যার ৮ রাকআত নফল, ৩ রাকআত বিতর, এবং দুই রাকআত ফজরের সালাতের সুন্নাত ছিল। [মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বিতরসহ সালাত আদায়ের অনুচ্ছেদ]

■ইমাম মালিক রহ. অভিমত:
আমি ১১ রাকআত রামাযানের কিয়াম হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং উমার বিন খাত্তাব লোকদেরকে একত্রে করেছিলেন এই সালাতের উপর এবং এটাই আল্লাহর নবীর ﷺ এর সালাত। এবং আমি জানিনা কোথা থেকে মানুষ এই বহু রাকআতের উদ্ভাবন করল। [কিতাবুল তাহাজ্জুদ, আব্দুল হক আল-শাবীলি; হাদীস নং ৮৯০]

→আল্লামা আইনি হানাফী রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর অভিমত ছিল ১১ রাকআতের উপর। [দেখুন উমদাতুল কারী ১১/১২৬, ২০১০ নং হাদীসের আলোচনায়]
→ শাইখ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর মাযহাব হল ৩৬ রাকআত। [আল-ইখতিয়ারাত, পৃ: ৬]
→ কাযী আবূ বকর আল-আরবি আল-মালিকী রহ. বলেন:
এবং সঠিক (মত) হল যে ১১ রাকআত পড়া উচিত। এটা ছিল রাসূল (সা:) এর সালাত ও কিয়াম। এর বাইরের কোন সংখ্যার কোন সত্যতা নাই। [عارضۃ الاحوذی 4/19 ح806]

■ ইমাম শাফেয়ী রহ. ২০ রাকাআত তারাবীহর কথা বলার পর বলেছেন:
-(তারবীহর সালাতের) ব্যাপারে কোন সমস্যা নাই এবং এর (রাকআত সংখ্যার) কোন সীমাবদ্ধতা নাই কারণ এটা নফল সালাত। যদি রাকআত সংখ্যা কম এবং কিয়াম লম্বা হয় তাহলে তা উত্তম এবং আমি এই মত পছন্দ করি আর যদি বেশি রাকআত সংখ্যা হয় তাহলেও তা উত্তম। [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২, ২০৩]

■ ইমাম আহমাদ ইবনে হানবল রহ. বলেন,
- ইসহাক বিন মানসুর রাকআতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: ৪০ রাকআত এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, এটা শুধু নফল সালাত। [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২]

→ ইবনে তাইমিয়াহ রহ. বলেন,
-কিন্তু সঠিক অভিমত হল যে সবগুলোই ভাল, যেমন বলেছেন ইমাম আহমাদ রহ.। কিয়ামুল রামাযানের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকআত নাই, কারণ রাসূল ﷺ কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি। [মাজমুআল ফাতাওয়া, ২৩/১১৩]

→তিরমিযি রহ. একই কথা বলেছেন যে ইমাম আহমাদ রাকআতের কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি। “ولم يقض فيه بشيء”


►►উপরের ইমামদের অভিমত থেকে এটা পরিস্কার যে উনারাও বিতরসহ ১১ রাকআতের তারাবীহকে অস্বীকার করেন নি। আর এটাও প্রমাণিত হলো ২০ রাকআত তারাবীহর উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় নি।

COMMENTS:-

  • Mahfuz Ahmed FZ আজকে আব্দুর রাজ্জাক এর একটা বয়ানে শুনলাম মক্কা মদিনায়(তুরকিদের দখলে) নাকি ২০ রাকাত তারাবীহ তুরকীদের ভয়ে পরা হয়।আমার প্রশ্ন মানুষের ভয়ে অথবা কোন গুস্টির ভয়ে বেদাত করা কি জায়েজ???। আপনারা নাকি মদিনা university এক এক জন শায়খ ত আপনারা কি (দুঃখিত) বাল হালান??যেই জায়গা থেকে ইসলাম প্রচার হইছে সেই জায়গায় বেদাত অসম্ভব কারণ আল্লাহতালা যেইখানে থেকে ইসলাম প্রচার করছেন সেই জায়গায় বেদাত এইটা (মূর্খ,বরবর,অসভ্য) লোকদের কাছেই মনে হবে।নবীজী যেই জায়গায় শুয়ে আছে সেইখানে বেদাত বোকা লোক ছাড়া কেউ এমনটা মনে করে না।আসলে যারা যত নবীজীর সুন্নত থেকে দূরে তারা তত বেদাত করে থাকে।
  • Ibrahim Rafat U r right ...... But i want to know makkah te keno 20 rakat porano hoi ????
  • Tamjeed Mahmud Shara bochor ki manush Tarabi'h pore. Tarabi'h kebol Ramadan ei pore
  • Sajibur Biplob Vai comment gulo answer jnty chai,mokka ty ki 20rakat tarabi hoy?r Umar(R) ar amol a ki sotti 20rakat jamaty pora hoto?r ki vaby amadr samaj a 20rakat chalu holo?
  • Sahriar Rahman Onu ভাই যতোগুলি উদাহরন দিলেন তার একটাও সহি হাদিস মোতাবেক না। তারাবি যদি ৮ রাকাত হবে তাহলে হযরত উমার(রা) খিলাফতের সময় জামাতে ২০ রাকাত পড়া হতো কেনো তার ব্যাখা দিবেন? নাকি আপনাদের এই তথাকথিত হজুরেরা উমারের থেকে বেশি ওলি ছিলেন?
    Like · Reply · 4 · 18 June at 14:28
    • Imtiaz Ahmed Khan Apnader hujur ra Muhammad Sallallahu Alaihi Wasallam er cheye nijeder boro bhabte paren hoito, tai apnader kotha batra airokom. Brain wash howar ekta limit thaka uchit. ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে বর্ণিত, লোকেরা উমর বিন খাত্তাব (রা:) এর আমলে রামাযান মাসে কিয়ামুল লাইল (বিতরসহ) ২৩ রাকআত আদায় করতেন। এই হাদীছের জবাবে কি বলবেন? এর জবাব হচ্ছে, হাদীছটি দুর্বল ও সহীহ হাদীছের বিরোধী।দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে:
      (১) তার সনদে ইনকিতা রয়েছে। অর্থাৎ কোন একজন রাবী বাদ পড়েছে। কারণ ইয়াজিদ বিন রুমান উমর (রা:) এর যুগ পায় নি। যেমন ইমাম নববী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ ঘোষণা করেছেন।
      (২) ইয়াজিদ বিন রুমানের হাদীছটি ইমাম মালিক (র:) তাঁর মুআত্তা গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য রাবী মোহাম্মাদ বিন ইউসুফ সায়েব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছের বিরোধী। সায়েব বিন ইয়াজিদ বলেন:
      উমর বিন খাত্তাব (রা:) উবাই বিন কা’ব এবং তামীম দারীকে মানুষের জন্য ১১ রাকআত তারাবীর নামায পড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। দেখুন: (দেখুন শরহুয যুরকানী ১/১৩৮)
    • +++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
    • READ MORE[...facebook...]

  • একটি সংযোজন: হানাফী মাজহাবের যে সমস্ত বিজ্ঞ আলেম ২০ রাকআত তারাবী পড়ার পক্ষের হাদীছগুলাকে যঈফ বলেছেন, তাদের নামের একটি বিশাল তালিকাঃ

    ১) মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, অধ্যায়ঃ কিয়ামে শাহরে রামাযান, পৃষ্ঠা নং-১৩৮, মুস্তফায়ী ছাপা, ১২৯৭ হিঃ
    ২) নাসবুর রায়া, (২/১৫৩)আল্লামা যায়লাঈ হানাফী,মাজলিসুল ইলমী ছাপা, ভারত
    ৩) মিরকাতুল মাফাতীহ,(৩/১৯৪) মোল্লা আলী কারী হানাফী, এমদাদীয়া লাইব্রেরী, মুলতান, ভারত
    ৪) উমদাতুল কারী শরহে সহীহ আল-বুখারী,(৭/১৭৭)প্রণেতা আল্লামা বদরুদ দীন আইনী হানাফী মিশরী ছাপা
    ৫) ফতহুল কাদীর শরহে বেদায়া (১/৩৩৪) প্রণেতা ইমাম ইবনুল হুমাম হানাফী
    ৬) হাশিয়ায়ে সহীহ বুখারী (১/১৫৪) প্রণেতা মাওলানা আহমাদ আলী সাহরানপুরী
    ৭) আল-বাহরুর রায়েক (২/৭২) প্রণেতা ইমাম ইবনে নুজাইম হানাফী
    ৮)হাশিয়ায়ে দুররে মুখতার (১/২৯৫) প্রণেতা আল্লামা তাহাভী (রঃ)হানাফী
    ৯) দুররুল মুখতার (ফতোয়া শামী)(১/৪৯৫) প্রণেতা আল্লামা ইবনে আবেদীন হানাফী
    ১০) হাশিয়াতুল আশবাহ পৃষ্ঠা নং-৯ প্রণেতা সায়্যেদ আহমাদ হামুভী হানাফী
    ১১) হাশিয়ায়ে কানযুদ দাকায়েক পৃষ্ঠা নং-২৬, প্রণেতা মাওলানা মুহাম্মাদ আহমাদ নানুতুভী
    ১২) মারাকীউল ফালাহ শরহে নুরুল ইজাহ পৃষ্ঠা নং- ২৪৭, প্রণেতা আবুল হাসান শরানবালালী
    ১৩) মা ছাবাতা ফিস সুন্নাহ,পৃষ্ঠ নং- ২৯২, প্রণেতা শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী
    ১৪) মাওলানা আব্দুল হাই লাখনুভী হানাফী বিভিন্ন কিতাবের হাশিয়াতে ২০ রাকআতের হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখুন উমদাতুর রেআয়া (১/২০৭)
    ১৫) তালীকুল মুমাজ্জাদ, পৃষ্ঠা নং-১৩৮
    ১৬) তুহফাতুল আখয়ার পৃষ্ঠা নং-২৮,লাখনু ছাপা
    ১৭)হাশিয়ায়ে হেদায়া (১/১৫১) কুরআন মহল, করাচী ছাপা
    ১৮) ফাইযুল বারী,(১/৪২০) প্রণেতা মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশমীরী
    ১৯) আলউরফুয্ শাযী পৃষ্ঠা নং- ৩০৯
    ২০) কাশফুস সিতর আন সালাতিল বিতর পৃষ্ঠা নং- ২৭
    ২১) শরহে মুআত্তা ফারসী,(১/১৭৭) প্রণেতা শাহ অলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। কুতুব খান রাহীমিয়া, দিল্লী, ১৩৪৬ হিঃ

    উপরোক্ত আলেমগণ ছাড়া আরও অনেকেই ২০ রাকআত তারাবীর হাদীছগুলোকে যঈফ বলেছেন। আশা করি উপরোক্ত তথ্যগুলো জানার পর কেউ ২০ রাকআত তারবীর পক্ষের হাদীছগুলো সহীহ বলা থেকে সকলেই বিরত থাকবেন এবং অন্যদেরকেও বিরত রাখার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ হাদীছের উপর আমল করার এবং জাল ও যঈফ হাদীছ বর্জন করার তাওফীক দিন। আমীন
  • Md Awlad O bondo

No comments:

Post a Comment